• ঢাকা
  • রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৫ এএম


ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ, সরকারি উদ্যোগ পেলে বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০৮ পিএম

চাহিদার চেয়ে ৭৩৫ কোটি ডিম বেশি উৎপাদন, প্রতি উপজেলায় ৫–৬ জন ভেটেরিনারিয়ান নিয়োগের দাবি

বাংলাদেশে ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে জানিয়ে প্রাণিসম্পদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতি উপজেলায় অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন ভেটেরিনারিয়ান নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের সভাপতি ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান।

তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর চাহিদার তুলনায় ৭৩৫ কোটি পিস বেশি ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। অথচ প্রতি উপজেলায় মাত্র একজন ভেটেরিনারিয়ানের পক্ষে ৫০ থেকে ৬০ হাজার পশুর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ব ডিম দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদ আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘প্রোটিন দ্যাট পাওয়ারস অ্যান্ড প্রোটেক্টস’ শীর্ষক সেমিনারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের মেডিসিন গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে অধ্যাপক ড. বাহানুর রহমান জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ২৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৫৯০ কোটি পিস ডিম উৎপাদিত হয়। অন্যদিকে, দেশে বার্ষিক ডিমের চাহিদা প্রায় ১৮ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৮৫৫ কোটি পিস। সে হিসাবে চাহিদার তুলনায় দেশে বছরে ৭৩৫ কোটি পিস বেশি ডিম উৎপাদিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, উৎপাদিত ডিমের উদ্বৃত্ত অংশ রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেরও বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ডিম উৎপাদনে ফিডের উচ্চমূল্য, ভ্যাকসিনের খরচ এবং খামার ব্যবস্থাপনার ব্যয় খাতটির জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অধ্যাপক বাহানুর রহমানের ভাষ্য, এসব খরচ মিলিয়ে বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে প্রায় ১০ থেকে ১১ টাকা ব্যয় হয়। এ অবস্থায় খামারিদের স্বার্থ রক্ষা এবং ভোক্তাদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে ডিম পৌঁছে দিতে কৃষি খাতের মতো পোল্ট্রি খাতেও সরকারি ভর্তুকি দেওয়া প্রয়োজন।

প্রাণিসম্পদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি উপজেলায় একজন করে ভেটেরিনারিয়ান রয়েছেন। কিন্তু একজনের পক্ষে ৫০ থেকে ৬০ হাজার পশুর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন। প্রাণীর রোগ প্রতিরোধ, চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রাণিসম্পদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রতি উপজেলায় অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন ভেটেরিনারিয়ানের পদ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক এবং ডিম দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিম দিবস উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব ও মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মারজিয়া রহমান।

সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ডিম একটি পুষ্টিকর খাবার। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও সেলেনিয়াম। মস্তিষ্ক ও পেশির বিকাশ, দৈহিক শক্তি বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধে ডিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এর আগে বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন চত্বর, প্রশাসনিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ক্যাম্পাসের সাতটি স্কুলের শিক্ষার্থী, পথচারী, যানবাহনচালক ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে সাড়ে তিন হাজার ডিম বিতরণ করা হয়।

/এএসএফ