• ঢাকা
  • রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৬ এএম


মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের হিরা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৯:২৫ পিএম

মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের হিরাআন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআন হিফজ প্রতিযোগিতায় আবারও সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশের একজন প্রতিযোগী। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কোরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতার পুরুষদের হিফজ বিভাগে যৌথভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের এহতিশামুল হক হিরা। ঢাকার মারকাযু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামীর এই প্রতিযোগী ৯৭ নম্বর পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।একই বিভাগে সমান ৯৭ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন সিরিয়ার আবদুল রহমান জামাল ইব্রাহিম। অন্যদিকে ৯৬ দশমিক ৩৩ নম্বর নিয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন স্বাগতিক মালয়েশিয়ার মুহাম্মদ ইজ্জুল আফনান সাজালি।পাঁচ দিনব্যাপী ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতা গত ৬ অক্টোবর শুরু হয়ে শুক্রবার শেষ হয়। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে (ডব্লিউটিসি) আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। শনিবার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।প্রতিযোগিতায় হিরার সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিরা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের এই অর্জনকে কেন্দ্র করে তারা হিরাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।অন্যান্য বিভাগে যারা সেরাএবারের প্রতিযোগিতার নারীদের তিলাওয়াত বিভাগে ৯১ দশমিক ৮৩ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মালয়েশিয়ার নুর শাকুরা মোহাম্মদ মুসা। তিনি দেশটির সারাওয়াকের বাসিন্দা। এই বিভাগে ৯১ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন সিঙ্গাপুরের আতিকাহ বিনতে সুহাইমি। তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন ব্রুনেইয়ের দায়াংকু সিতি উম্মি শায়জানা বিনতে পেঙ্গিরান হাজি মারজুকি। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৯০ দশমিক ৮৩।পুরুষদের তিলাওয়াত বিভাগে ৯৪ দশমিক ৬৭ নম্বর পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার মুহাম্মদ ফাউজি রিদওয়ান। মালয়েশিয়ার সিক হাসনুল তাকিয়ুদ্দিন সিক সাজালি ৯২ দশমিক ৯৯ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন। ৯২ দশমিক ১৭ নম্বর নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন বেলজিয়ামের ব্রাহিম বুগালাব।নারীদের হিফজ বিভাগে শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন নাইজারের চাফাতু ইসুফু। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৯৬ দশমিক ১৭। লিবিয়ার মিন্নাহ আলী আলসুদানি আগনাইয়াহ ৯৫ দশমিক ৫০ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় এবং মিয়ানমারের থেইন গি মোন ৯৫ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের দীর্ঘ সাফল্যআন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সাফল্যের ইতিহাস কয়েক দশকের। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংরক্ষিত তথ্য সমন্বয় করে দেখা যায়, ১৯৮২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ৩৫ জন বাংলাদেশি হাফেজ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মোট ৪৩টি প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। একই প্রতিযোগী একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় প্রতিযোগীর সংখ্যা এবং প্রথম স্থান অর্জনের সংখ্যা এক নয়।হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের হাফেজদের এই সাফল্যের সূচনা হয় ১৯৮২ সালে। ওই বছর লিবিয়ায় কারি আবদুল হক প্রথম স্থান অর্জন করেন। এরপর ১৯৯৪ সালে ইরানে সাখাওয়াত হোসাইন এবং ১৯৯৬ সালে একই দেশে মাহমুদুল হাসান চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৯৯ সালে মিশরে ইমদাদুল্লাহ এবং ইরানে ফরিদ আহমদ প্রথম স্থান অর্জন করেন।পরবর্তী বছরগুলোতেও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজদের সাফল্য অব্যাহত থাকে। ২০০০ সালে মিশরে নাবিল ওয়ালিদ, ২০০১ সালে ইব্রাহিম বিন হেলাল, ২০০২ সালে জর্ডানে হোসাইন আহমাদ এবং ২০০৩ সালে মিশরে আবদুল কাদির প্রথম স্থান অর্জন করেন।২০০৭ সালে দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০০৯ সালে মিশরেও প্রথম স্থান অর্জন করেন ফজলে রাব্বি আদেল। ২০১০ সালে জর্ডানে মো. সাইফুল ইসলাম এবং ২০১১ সালে ইরানে হাফেজ সালাহউদ্দিন শীর্ষস্থান অর্জন করেন।২০১২ সালে সৌদি আরবে পৃথক বিভাগে প্রথম হন মো. তানভীর হোসাইন, এহসান উদ্দিন নোমান ও মুহাম্মদ সাদ সুরাইল। পরের বছর, অর্থাৎ ২০১৩ সালে সৌদি আরবে মো. ইমাদুল্লাহ, জর্ডানে ফারিয়া তাসলিম এবং দুবাইয়ে হাফেজ নাজমুস সাকিব চ্যাম্পিয়ন হন। ২০১৪ সালেও সৌদি আরবে প্রথম স্থান অর্জন করেন নাজমুস সাকিব। একই বছর মিশরে অনুষ্ঠিত ২১তম আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া।২০১৫ সালে সুদানে প্রথম স্থান অর্জন করেন নাজমুস সাকিব। ওই বছর মিশরে পৃথক বিভাগে নাহিয়ান কায়সার ও মুহিব্বুল্লাহ এবং জর্ডানে সাঈদ হাসান চ্যাম্পিয়ন হন। ২০১৬ সালে তুরস্কে আবদুল আখের এবং বাহরাইনে হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া প্রথম স্থান অর্জন করেন।২০১৭ সালে সৌদি আরব ও মিশরে আবদুল্লাহ আল মামুন এবং দুবাইয়ে তারিকুল ইসলাম চ্যাম্পিয়ন হন। ২০১৮ সালে মিশরে মুজাহিদুল ইসলাম এবং ২০১৯ সালে জর্ডানে মো. সাইফুর রহমান ত্বাকী প্রথম স্থান অর্জন করেন।২০২১ সালে ইরান এবং ২০২৩ সালে দুবাইয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম। ২০২৪ সালেও একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজরা সাফল্য পান। ওই বছর ইরানে বশির আহমদ, সৌদি আরবে আনাস বিন আতিক, তুরস্কে মুআজ মাহমুদ, কুয়েতে আনাস মাহফুজ এবং সেনেগালে অনুষ্ঠিত ১১তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় হাফেজ আবু রাইহান প্রথম স্থান অর্জন করেন। একই বছর সৌদি আরবে ১৫ পারা হিফজ বিভাগেও চ্যাম্পিয়ন হন মুআজ মাহমুদ।২০২৫ সালে মিশরে প্রথম স্থান অর্জন করেন আনাস বিন আতিক। ২০২৬ সালে মালয়েশিয়ায় হাফেজ ইব্রাহিম শেখ এবং সৌদি আরবে ১৫ পারা হিফজ বিভাগে হাফেজ মোহাম্মদ নুরুদ্দিন জাকারিয়া চ্যাম্পিয়ন হন।বিভিন্ন উৎসের তথ্যে ৪৩টি প্রথম স্থানইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের সংরক্ষিত তথ্যে ১৯৯৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের হাফেজদের ৩৭টি প্রথম স্থান অর্জনের তথ্য রয়েছে। এর বাইরে ১৯৮২ সালে কারি আবদুল হকের সাফল্য এবং ২০১৪, ২০১৫, ২০২৪ ও ২০২৬ সালের কয়েকটি বিজয়ের তথ্য পাওয়া গেছে হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক কিরাত সংস্থা বাংলাদেশের কাছ থেকে।বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য একত্র করে ১৯৮২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের হাফেজদের মোট ৪৩টি প্রথম স্থান অর্জনের হিসাব পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের এই সাফল্য দেশের হিফজ শিক্ষার ধারাবাহিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই সাফল্যের ধারা ধরে রাখতে তাজবিদ, ওয়াকফ-ইবতিদা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

/বিএসএস