• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫২ পিএম


জামালপুরে গ্যাসের সন্ধান, দৈনিক ৫০ লাখ ঘনফুট উত্তোলনের সম্ভাবনা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০১ পিএম

জামালপুরে গ্যাসের সন্ধান, দৈনিক ৫০ লাখ ঘনফুট উত্তোলনের সম্ভাবনা

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উপজেলার তারতাপাড়া এলাকায় জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপের খননকাজ সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। কূপটিতে গ্যাসসমৃদ্ধ স্তরের সন্ধান পাওয়ায় দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে উপজেলার আরও দুটি এলাকায় নতুন কূপ খননের প্রস্তুতি চলছে।

বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জের তারতাপাড়া এলাকায় ১৯৮০ সালে সিসমিক জরিপের মাধ্যমে গ্যাসের সম্ভাবনা শনাক্ত করা হয়। পরে বিভিন্ন পর্যায়ে ভূকম্পন জরিপ ও উপাত্ত বিশ্লেষণের পর সেখানে অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি জামালপুর-১ কূপের খননকাজ শুরু করে বাপেক্স। প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খননের পর কূপটিতে গ্যাসসমৃদ্ধ স্তরের সন্ধান পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কূপটির ১ হাজার ৪৪১ থেকে ১ হাজার ৪৪৫ মিটার গভীরতায় গ্যাসসমৃদ্ধ স্তর শনাক্ত হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কূপটিতে আনুমানিক ৭ দশমিক ২২ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুদ থাকতে পারে। সেখান থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নিয়মিত বাণিজ্যিক উৎপাদন ও সরবরাহ শুরুর সর্বশেষ অবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাপেক্সের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, মাদারগঞ্জে আরও দুটি এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জামালপুর-২ কূপটি উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের সিংদহ এলাকায় খনন করা হবে। অন্যদিকে জামালপুর নর্থ-১ কূপটি খনন করা হবে চরপাকেরদহ ইউনিয়নের নব্যচর এলাকায়। প্রতিটি কূপ প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খননের পরিকল্পনা রয়েছে। কূপ দুটি খননের জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি ও সিভিল ওয়ার্কের কার্যক্রমও নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদারগঞ্জের কূপগুলো থেকে গ্যাস পাওয়া গেলে তা সরবরাহের জন্য প্রায় ২২ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় নেওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয়ভাবে আবিষ্কৃত গ্যাস দেশের সার উৎপাদন খাতে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মাদারগঞ্জে গ্যাসের সন্ধান স্থানীয় অর্থনীতি ও দেশের জ্বালানি খাতের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে নতুন কূপ খনন, গ্যাসের মজুদ ও বাণিজ্যিক উৎপাদনযোগ্যতা যাচাই এবং পাইপলাইন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এসব কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে মাদারগঞ্জের গ্যাস জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার সময় ও পরিমাণ।

/এএসএফ