সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শাহিন আহমদ (২৫) নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের সোনারখেওড় গ্রামের সীমান্তসংলগ্ন ১৩২৮ নম্বর পিলারের কাছের একটি কৃষিজমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের পিঠে গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে কে বা কারা তাঁকে গুলি করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত শাহিন আহমদ কানাইঘাট উপজেলার কেউটি হাওর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) অথবা সীমান্ত এলাকার অস্ত্রধারী খাসিয়াদের গুলিতে তিনি নিহত হয়ে থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে শাহিন আহমদ বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। শনিবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় লোকজন সোনারখেওড় গ্রামের সীমান্তসংলগ্ন একটি কৃষিজমিতে তাঁর গুলিবিদ্ধ মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁরা বিষয়টি নিহতের পরিবারের সদস্যদের জানান।
খবর পেয়ে শাহিনের বড় ভাই জসিম উদ্দিন কানাইঘাট থানা পুলিশকে ঘটনাটি অবহিত করেন। পরে পুলিশ বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা মরদেহের পিঠে গুলির চিহ্ন দেখতে পান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শাহিন আহমদ মাঝেমধ্যে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যেতেন। সেখানে বিভিন্ন খাসিয়া পুঞ্জিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তাঁদের ধারণা, শুক্রবার রাতে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় কোনো একপর্যায়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে থাকতে পারেন। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ সীমান্তবর্তী সোনারখেওড় এলাকা থেকে শাহিন আহমদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে। তাঁর পিঠে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে কে বা কারা তাঁকে গুলি করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যুবকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
/এএসএফ