গত ১৭ বছরে দেশে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির আধুনিক ১০ তলা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আইনজীবীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে যতগুলো হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সব হত্যার বিচার করা হবে। দেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
বিগত সরকারের সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘১৭ বছরে বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় এমন ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে, যিনি ২০ বছর আগেই মারা গেছেন।’
১/১১-এর সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। দেশ ত্যাগ করলে তাকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি রাজনীতি না করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তার দুই সন্তানকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কিন্তু আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে যাননি। অন্যদিকে আরেক নেত্রী দেশের কথা না ভেবে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিদেশে চলে গেছেন।’
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব নাগরিককে এসব কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
সরকারের ব্যয় সংযমের উদাহরণ দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের জন্য ঢাকায় ২৮টি গাড়ির পরিবর্তে চারটি গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে একদিকে যানজট কমেছে, অন্যদিকে সরকারি ব্যয়ও কমেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ১০০ টাকার বেশি মূল্যের খাবার গ্রহণ করেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
গত ১৭ বছরে দেশের রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থার পরিস্থিতির সমালোচনা করে আসাদুজ্জামান বলেন, এ সময়ে দেশের রাজনীতিকে ধ্বংস করা হয়েছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিগত সরকার ব্যর্থ হয়েছে। একসময় ‘লাল টেলিফোনের’ মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইনমন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় আইনজীবীদের বিভিন্ন সমস্যার কথাও শোনেন আইনমন্ত্রী। বরিশালে এসে আইনজীবীদের সমস্যার কথা জানতে পারার বিষয়টি তুলে ধরে রসিকতার ছলে তিনি বলেন, ‘জীবনানন্দ দাশের বরিশালে বেড়াতে এসে মনে হচ্ছে, কবি যেমন বলেছিলেন, মানুষের ব্যথা আমি পেয়ে গেছি পৃথিবীর পথে এসে। তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে পারি, আইনজীবীদের ব্যথা আমি পেয়ে গেছি বরিশাল বারে এসে।’
ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, পুরো পৃথিবী যখন বিপর্যস্ত, তখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেলের দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ সরকার সবার শেষে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেছে বলেও জানান তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যারা গুপ্ত-সুপ্ত আছে, তারা ফ্যামিলি কার্ডের বিপক্ষে ছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় এসে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে যাবে।’
এর আগে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির আধুনিক ১০ তলা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ার।
এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ ফারুক হোসেন এবং বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন।
/এসএন