• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০২ পিএম


ভারতে বাজার করতে বেরিয়েছিলেন মুসলিম নারী, তুলে নিয়ে বাংলাদেশে পুশ ইন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১২ আগস্ট ২০২৬ ৮:৩১ পিএম

ভারতের মুম্বাইয়ে বাজারে যাওয়ার পথে এক মুসলিম গৃহবধূকে আটক করে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, ওই নারী ও তার স্বামী জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক। তাদের কাছে নাগরিকত্বের পক্ষে জন্মসনদ, স্কুলের সনদ ও পরিবারের পরিচয়সংক্রান্ত একাধিক নথিও রয়েছে।ভুক্তভোগী নারী সাইদা ফকির ও তার স্বামী জুম্মান ফকিরের পৈতৃক বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগরে। প্রায় ২০ বছর ধরে তারা নভি মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন। জুম্মান একটি হাউজিং সোসাইটিতে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করেন। তাদের ১২ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।পরিবারের অভিযোগ, গত ১৮ জুলাই সকালে বাজারে যাওয়ার সময় মুম্বাই পুলিশ সাইদাকে আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়।সাইদাকে আটকের খবর পেয়ে তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা চেম্বুর থানায় যান। সেখানে তারা সাইদার জন্মসনদ, স্কুলের সনদ, বাবা-মায়ের পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথি পুলিশের কাছে জমা দেন। এসব নথি যাচাই করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি।তবে তিন দিন পর পরিবারকে জানানো হয়, সাইদাকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর স্বামী জুম্মানকে ফোন করেন সাইদা। তিনি জানান, সাতক্ষীরায় পৌঁছানোর পর চাষের জমি ও কাদার মধ্য দিয়ে কয়েক কিলোমিটার হাঁটতে হয়েছে তাকে। পরে একটি সড়কে উঠে স্থানীয় একটি পরিবারের কাছে আশ্রয় নেন। ওই পরিবার তাকে খাবার ও পোশাক দেয় বলেও জানান সাইদা।জুম্মানের দাবি, তার স্ত্রী কোনোভাবেই বাংলাদেশি নন। ভারতীয় নাগরিকত্বের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকার পরও তাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে পুশ-ইন করা হয়েছে।বর্তমানে সাইদা বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। ১২ বছরের ছেলেকে রেখে বাংলাদেশে অবস্থান করায় দ্রুত ভারতে ফিরতে চান তিনি।সাইদাকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে তার পরিবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ—মাসুমও ঘটনাটি নিয়ে আদালতে অভিযোগ করেছে।সংগঠনটির দাবি, ভারতীয় নাগরিকত্বের নথি থাকা সত্ত্বেও সাইদাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

/বিএসএস