বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এটিই সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকেই বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান সংসদে ক্ষমতাসীন দলের সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায়, শেষ পর্যন্ত কে রাষ্ট্রপতি হবেন, তা অনেকটাই নির্ভর করছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর।সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দলের প্রতি তার দীর্ঘদিনের আনুগত্য তাকে রাষ্ট্রপতি পদের অন্যতম আলোচিত সম্ভাব্য মুখে পরিণত করেছে।এ ছাড়া বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ-এর নামও বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।তবে রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি এবং দেশের সংকটকালীন সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে এই সাংবিধানিক পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।কে কতটা এগিয়ে?রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় আস্থার বিচারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অনেকেই এগিয়ে রাখছেন। দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দেওয়া, সংসদীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটে তার ভূমিকা তাকে শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।অন্যদিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈশ্বিক পরিসরে তার পরিচিতি এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবদানের কারণে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে দলীয় রাজনীতির বাস্তবতা এবং সংসদীয় সমীকরণে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপরবাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ের প্রধান শর্ত হলো জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন। ফলে শেষ পর্যন্ত যে প্রার্থী ক্ষমতাসীন দলের আনুষ্ঠানিক সমর্থন পাবেন, তারই রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা এবং ১৬ আগস্ট বাছাই প্রক্রিয়ার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে অনেকটাই স্পষ্ট চিত্র সামনে আসবে। এরপরই জানা যাবে, বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শেষ পর্যন্ত কার নাম চূড়ান্ত হয়।
/বিএসএস