জুলাই আন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতিবিজড়িত সেই জাতীয় পতাকা এবার তুলে দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। গুরুতর আহত অবস্থায় মাথার রক্তক্ষরণ থামাতে যে পতাকাটি মাথায় বেঁধেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেটিই প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার স্বপ্ন লালন করেছিলেন জুলাই আন্দোলনে আহত শেখ আজিজুর রহমান। অবশেষে সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শেখ আজিজুর রহমান। সাক্ষাতে তিনি জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়ার অভিজ্ঞতা, চিকিৎসার দীর্ঘ লড়াই, পড়াশোনা এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য সিএনজি চালানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। মাথায় গুলির ক্ষত এবং শরীরে ৩৬টি বুলেটের স্প্লিন্টারের চিহ্ন বহন করা এই তরুণের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী এবং তার বর্তমান অবস্থার খোঁজখবর নেন।সাক্ষাৎ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় আজিজুর বলেন, রক্তমাখা জাতীয় পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার যে স্বপ্ন তিনি এতদিন ধরে বয়ে বেড়াচ্ছিলেন, তা আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।শেখ আজিজুর রহমান সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী এবং কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় মিরপুর-১০ এলাকায় পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থাতেও মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ঘটনা সে সময় আলোচনায় আসে।পরবর্তীতে তিনি গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের মুখোমুখি হন। তবে তার দাবি, আন্দোলনের দুই বছর পার হলেও এখনো তিনি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। বর্তমানে সংসারের ব্যয় এবং নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে সিএনজি চালিয়ে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
/বিএসএস