• ঢাকা
  • বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৬ এএম


রংপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় একই সাথে তিন প্রজন্ম বাবা, ছেলে ও দাদার মৃত্যু!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩ জুলাই ২০২৬ ৬:৫৬ পিএম

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন প্রজন্মের তিনজন নিহত হয়েছেন। মোটরসাইকেল ও ট্রাকের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন পল্লি চিকিৎসক নির্মল কুমার সরকার (৭০), তার ছেলে প্রশান্ত কুমার সরকার (৩৫) এবং সাত বছর বয়সী নাতি বন্ধন কুমার সরকার। মর্মান্তিক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহতদের বাড়ি গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের চেংমারী কুড়িয়ার মোড় এলাকায়। বাবা ও ছেলে দুজনই পেশায় পল্লি চিকিৎসক ছিলেন। একই পরিবারের তিন প্রজন্মের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজন ও এলাকাবাসী শোকাহত।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মোটরসাইকেলে করে রওনা হন তারা। পথে বড়বিল মন্থনা বাজার এলাকার মমো জুট মিলের সামনে রাস্তার পাশে একটি মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে ছিল। সেটিকে পাশ কাটাতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাককে সাইড দেন মোটরসাইকেলচালক প্রশান্ত কুমার। এ সময় রাস্তার ওপর শুকাতে দেওয়া খড়ের ওপর ট্রাকের চাকা উঠে গেলে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়েন।

ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলচালক প্রশান্ত কুমার সরকারের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নির্মল কুমার সরকার ও শিশু বন্ধনকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে নির্মল কুমার মারা যান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা সাত বছরের বন্ধনও রাত সাড়ে ১১টার দিকে মৃত্যুবরণ করে।

এদিকে সন্ধ্যায় বাবা প্রশান্ত ও দাদা নির্মল কুমারের শেষকৃত্য চলাকালে হাসপাতাল থেকে খবর আসে, ছোট্ট বন্ধনও আর বেঁচে নেই। এ সংবাদ শ্মশানে পৌঁছানোর পর উপস্থিত শত শত মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন। মুহূর্তেই পুরো পরিবেশ শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, বন্ধনের বয়স মাত্র সাত বছর হওয়ায় সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাকে দাহ না করে সমাধিস্থ করা হয়েছে।

প্রতিবেশী পিকে সরকার বলেন, এমন শোকাবহ ঘটনা তারা কখনও দেখেননি। শ্মশানে যখন বাবা ও দাদার শেষকৃত্য চলছিল, তখনই নাতির মৃত্যুর খবর আসে, যা উপস্থিত সবাইকে বাকরুদ্ধ করে দেয়।

গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান দুলু বলেন, একই দিনে তিন প্রজন্মের তিনজনকে হারানোর ঘটনা পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। পল্লি চিকিৎসায় তাদের অবদান এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন মনে রাখবে।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এএসএফ