• ঢাকা
  • বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৪ পিএম


১৭ বছর পর দেশ সত্যিকারের কার্যকর সংসদ পেয়েছে: স্পিকার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ জুন ২০২৬ ১১:০০ পিএম

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশ একটি সত্যিকারের কার্যকর সংসদ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বহু বছর ধরে দেশের মানুষ এমন একটি সংসদের প্রত্যাশা করেছিল। এবারের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে এবং নতুন সংসদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের সাংবাদিক লাউঞ্জে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) আয়োজিত ‘ফল উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা ও কার্যকর প্রচারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ আরও মহিমান্বিত হবে। একই সঙ্গে সংসদ জনগণের প্রকৃত আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ অতীতের সংসদীয় ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন। বিশেষ করে সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলের সংসদ সদস্য থাকার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময়ের সংসদের সদস্য ছিলেন—এ কথা বলতেও তার লজ্জা লাগে।

তিনি বলেন, ‘আমি বেশ কয়েকটি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। বিশেষ করে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলের সংসদের সদস্য ছিলাম, তা বলতেই লজ্জা পাই। অনেক সময় টেলিভিশনে দেখেছি বা রেডিওতে শুনেছি—একটি এলাকা থেকে একজন নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু দুই দিন পরে দেখি, অন্য লোক সংসদে এসে বসে আছেন। ফাঁকতালে বহু লোক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে গিয়েছিলেন।’

স্পিকারের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দেশে এমন ‘আবোল-তাবোল’ সংসদ চলার পর এবার একটি প্রকৃত কার্যকর সংসদ গঠিত হয়েছে। তিনি বর্তমান সংসদকে ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদের মতো শক্তিশালী ও প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ হিসেবে উল্লেখ করেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এবারের নির্বাচনে এমন অনেক প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, যাদের আগে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিচিতি ছিল না। তবে তারা নিজস্ব যোগ্যতা ও জনগণের সমর্থনে নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছেন।

ভোটারদের মানসিকতা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, এবারের ভোটের ধরণ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে যে দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। অতীতে সংসদ সদস্যদের নানা কর্মকাণ্ডে জনগণ সন্তুষ্ট ছিল না। তারা একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সংসদ দেখতে চেয়েছিল।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দায়িত্বের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘যেহেতু মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে, তাই আমাদের জনগণের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতে হবে। আমাদের দায়িত্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সংসদকে দেশের সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে শক্তিশালী সাংবাদিকতার প্রয়োজন রয়েছে। এ ধরনের আয়োজন সংসদ সদস্য ও সাংবাদিকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক মেলবন্ধন আরও জোরদার করবে।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে সাংবাদিকদের যেকোনো ইতিবাচক ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগে সংসদ সচিবালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।

বিপিজেএর সভাপতি হারুন জামিলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথোর সঞ্চালনায় আয়োজিত এই ফল উৎসবে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিএনপির সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, সালাহ উদ্দিন, জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, এম আব্দুল্লাহ, মোস্তফা কামাল মজুমদার, বাছির জামাল, আশিষ সৈকত, জাহেদ চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম কাগজী, আলফাজ আনাম, সুলতান মাহমুদ, ইলিয়াস হোসেন, কামরান রেজা চৌধুরী, রিয়াজ আহমেদ, নাফিজা দৌলা, নিখিল ভদ্র প্রমুখ।

এ ছাড়া সংগঠনের সহসভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মো. শাহজাহান মোল্লা, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল ইসলাম (তানিম আহমেদ), কার্যনির্বাহী সদস্য মশিউর রহমান এবং মনিরুল ইসলামও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

/এসএন