• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৫ এএম


চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৩ জুন ২০২৬ ১২:১০ পিএম

নতুন করে পররাষ্ট্র নীতি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।সোমবার (২২ জুন) শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে এই সামরিক চুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে ঢাকা ও বেইজিংয়ের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, চলতি বছরের আগস্টের মধ্যেই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। তিনি বলেন, চুক্তির আওতায় প্রতিটি অত্যাধুনিক চীনা যুদ্ধবিমানের আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি বা ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।জানা গেছে, এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে গত সপ্তাহে চীনের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করেছে। এছাড়া বেইজিং সফরের সময় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করতে চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেবে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রতিরক্ষা আলোচনা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় উন্নীত করার বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ।

সরকারি কর্মকর্তাদের আশা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ ইশতেহারের মাধ্যমে বর্তমান কৌশলগত সম্পর্ককে উন্নীত করে ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ বা অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে।বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রায় ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক এবং যৌথ ইশতেহার স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বহুল আলোচিত তিস্তা নদী ব্যারাজ প্রকল্পের যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি নিয়েও আলোচনা হবে।এছাড়া দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলার আধুনিকীকরণ প্রকল্প যৌথভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ ইতোমধ্যে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও পর্যাপ্ত ব্যবহারের অভাবে পিছিয়ে থাকা এই বন্দরের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকার মংলায় চীনের জন্য ১১০ একর জমিতে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।উল্লেখ্য, মংলার এই শিল্প পার্কটি আগে ভারতের বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত ছিল। এ লক্ষ্যে মুম্বাইভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অতীতে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্প্রতি ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে হওয়া ওই চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।

ফলে মংলার জমিটি এখন চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।এর এক সপ্তাহ আগে সরকার চট্টগ্রামে একটি বিশেষ চীনা শিল্প পার্ক স্থাপনের অনুমোদন দেয়। সেখানে চীন ইতোমধ্যে ৫০ কোটি বা ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।দেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে সরকারের ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের তাৎক্ষণিক ও প্রধান লক্ষ্য হলো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।” তিনি আরও বলেন, চীনের বড় বড় উৎপাদনমুখী শিল্প বাংলাদেশে স্থানান্তর করা গেলে দেশের হাজার হাজার তরুণের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

/বিএসএস