• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪২ এএম


২০টি চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, ভারতের উদ্বেগ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২০ জুন ২০২৬ ৩:০১ পিএম

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে চীনের তৈরি ২০টি জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টিরোল ফাইটার জেট কেনার সম্ভাব্য উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত পরিবেশে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই সম্ভাব্য চুক্তিকে ভারত শুধু সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের বিষয় হিসেবে দেখছে না, বরং অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তারের অংশ হিসেবেও বিবেচনা করছে।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই যুদ্ধবিমান সংগ্রহের আলোচনা গতি পেতে শুরু করে। পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারও বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের পরিকল্পনা অব্যাহত রাখে। এর ফলে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় পুরোনো এফ-৭ যুদ্ধবিমান এবং সীমিত সংখ্যক মিগ-২৯-এর বিকল্প হিসেবে আধুনিক জে-১০সিই সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা এবং আধুনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।প্রস্তাবিত চুক্তিতে শুধু যুদ্ধবিমান কেনাই নয়, এর সঙ্গে পাইলট ও কারিগরি জনবলের প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো, লজিস্টিক সহায়তা এবং উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থার সরবরাহের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির সুবিধায় অর্থ পরিশোধের সুযোগ থাকায় জাতীয় অর্থনীতির ওপর তাৎক্ষণিক বড় ধরনের চাপ পড়ার সম্ভাবনা কম বলে জানা গেছে।বাংলাদেশের এই সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনা ভারতের প্রতিরক্ষা মহলেও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্তকারী শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে আধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হলে তা আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।জে-১০সিইকে ৪.৫ প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে রয়েছে উন্নত অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রাডার, আধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার পিএল-১৫ এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা। একই সঙ্গে এটি একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও মোকাবিলা করতে পারে এবং নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যেই চীন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। সাবমেরিন, ট্যাংক, যুদ্ধজাহাজ এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পর যদি আধুনিক যুদ্ধবিমানও যুক্ত হয়, তাহলে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি একটি সার্বভৌম সিদ্ধান্ত এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। অন্যদিকে আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সামরিক প্রতিযোগিতার নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে ভূরাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।সূত্র: ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া

/বিএসএস