• ঢাকা
  • শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২ পিএম


টাকা যেন জীবাণুর কারখানা, একাংশ পোড়ে কারা?

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ মে ২০২৬ ১:২৫ পিএম

ছেঁড়া, ময়লাযুক্ত ও আগুনে পোড়া খুচরা টাকা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বাজারে প্রচলিত এসব টাকার কারণে প্রতিদিনই লেনদেনের সময় ঝগড়া-বিবাদ, তর্ক ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটছে। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ময়লাযুক্ত টাকার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে বিভিন্ন চর্মরোগ, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানা ধরনের পেটের রোগ।

লিটল ফকির নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে পান-সিগারেটের ছোট দোকান চালান। প্রতিদিন তাঁকে ছেঁড়া-ফাঁড়া খুচরা টাকা নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়াতে হয়।

তিনি বলেন, ‘সব খুচরা টেহাই ছিঁড়া-ফাঁড়া। কোনা-কানায় আগুনে পুড়া। হারাদিনে ৩০/৪০জন কাস্টমারের লগে ছিঁড়া-ফাঁড়া টেহা লইয়া কাইজ্জা করুন লাগে। মিজাজ কিবায় ভালা থাকব?’

একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন মহির খারুয়া গ্রামের রিকশাচালক মনির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ছিঁড়া ফাঁড়া টেহা লইয়া যাত্রীগর লগে হারাদিনই কাইজ্জা হরুন লাগে। যাত্রীরাও দেয় ছিঁড়া ফাঁড়া টেহা। হিব্বার ভাংতি ফেরত দেওয়ার সময় আমিও দেই ছিঁড়া টেহা। কোনো ভালা খুচরা টেহা নাই।’

শুধু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা রিকশাচালক নয়, বাজারে প্রচলিত ছেঁড়া, ময়লাযুক্ত ও আগুনে পোড়া খুচরা টাকা নিয়ে প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নতুন নোটের বিভিন্ন অংশে আগুনে পোড়ার দাগ দেখা যায়। এ ধরনের টাকা নিতে অনেকেই অনীহা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, মাদকসেবীরা নতুন খুচরা টাকার ওপর মাদক রেখে আগুন ব্যবহার করে সেবন করে থাকে। ফলে টাকার বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়।

এদিকে বাজারে প্রচলিত এসব ছেঁড়া ও ময়লাযুক্ত টাকা অনেক ব্যাংক গ্রহণ করতে চায় না। ফলে বিকল্প না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে এসব টাকা ব্যবহার করছে। এর ফলেই প্রতিদিন লেনদেনের সময় সৃষ্টি হচ্ছে বিরোধ ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।

স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, ছেঁড়া ও ময়লাযুক্ত টাকার মাধ্যমে স্ক্যাবিস, একজিমা, এলার্জিসহ বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ছাড়া ডায়রিয়া, আমাশয় ও অন্যান্য পেটের রোগও হতে পারে।

এক সরকারি ব্যাংকের এক শাখা ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনিও এই সমস্যার ভুক্তভোগী। তাঁর ভাষায়, প্রচলিত ছেঁড়া ও ময়লাযুক্ত টাকার আদান-প্রদান অবশ্যই একটি বড় সমস্যা। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর এসব নষ্ট টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বাজার থেকে প্রত্যাহার করে একই নম্বরের নতুন নোট বাজারে ছাড়ার কথা থাকলেও কয়েক বছর ধরে নতুন টাকা ছাড়া হচ্ছে না বলে তিনি জানিয়েছেন।

সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত বাজার থেকে ছেঁড়া ও ময়লাযুক্ত টাকা প্রত্যাহার করে নতুন নোট সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় জনভোগান্তির পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও আরও বাড়বে।

/এইচটি