• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম


অনলাইনে ‘কবুল’ বললেই কি বিয়ে হয়? শরিয়তের স্পষ্ট ব্যাখ্যা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ৬:৫৫ পিএম

ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো লিখিত বার্তার মাধ্যমে শুধুমাত্র বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া (ইজাব) এবং জবাবে ‘কবুল’ বলা হলেও শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয় না। অনেকেই মনে করেন তিনবার ‘কবুল’ বললেই বিয়ে হয়ে যায়—এটি একটি ভুল ধারণা।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য পাত্র ও পাত্রী—অথবা তাদের বৈধ প্রতিনিধি—একই বৈঠকে উপস্থিত থেকে ইজাব-কবুল সম্পন্ন করতে হয়। অনলাইনে বা লিখিত বার্তার মাধ্যমে এই “একই বৈঠক” নিশ্চিত হয় না। ফলে মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রস্তাব ও গ্রহণ করা হলেও তা বৈধ বিয়ে হিসেবে গণ্য হয় না।

এছাড়া বিয়ের জন্য সাক্ষীর উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী কমপক্ষে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী সাক্ষী থাকতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে সরাসরি মুখোমুখি ইজাব-কবুল হলেও বিয়ে শুদ্ধ হয় না।

হাদিসে এসেছে—“অভিভাবক এবং দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে (শুদ্ধ) হয় না।” (ইবনে হিব্বান)। অর্থাৎ, বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবক (ওয়ালি) ও সাক্ষীর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে যদি কোনো বিয়ের আকদ এমন স্থানে সম্পন্ন হয় যেখানে অনেক মানুষ উপস্থিত থাকে এবং তারা ইজাব-কবুল শুনতে পায়, তাহলে সেখানকার উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্য থেকেই সাক্ষীর শর্ত পূরণ হতে পারে—যেমন মসজিদে বিয়ের ক্ষেত্রে।

সুতরাং, শুধু অনলাইনে ‘কবুল’ বললেই বিয়ে হয়ে যায় না। শরিয়তসম্মত বিয়ে সম্পন্ন করতে হলে নির্ধারিত সব শর্ত—ইজাব-কবুল, উপস্থিতি, সাক্ষী ও অভিভাবকের অনুমতি—ঠিকভাবে পূরণ হওয়া জরুরি।