• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৫ এএম


তিন ধাপে পে-স্কেল! জুলাই থেকেই কার্যকর হবে ৯ম পে-স্কেলের প্রথম ধাপ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৪ মে ২০২৬ ১০:৫১ এএম

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ধাপে ধাপে এই পে-স্কেল কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে এবং আগামী ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতন হিসেবে পাচ্ছেন মাত্র ৮ হাজার ২৫০ টাকা।

গত ২১ এপ্রিল সরকার জাতীয় বেতন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট তিনটি কমিশনের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি পুনর্গঠিত কমিটি গঠন করে। ইতোমধ্যে কমিটি তাদের মতামত জমা দিয়েছে এবং সেই অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বর্তমান দ্রব্যমূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি করা হবে, পরবর্তীতে চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য ভাতা বাড়ানো হবে।

প্রস্তাবিত স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। তুলনামূলকভাবে ২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেলে এই অনুপাত ছিল ১:৯.৪।

বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারী ভাতাসহ মোট প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন স্কেল অনুযায়ী তার মোট বেতন বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

এছাড়া ১৯তম গ্রেড থেকে ১ম গ্রেড পর্যন্ত ভাতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে উচ্চ গ্রেডে বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখা হতে পারে, যাতে বেতন কাঠামোয় ভারসাম্য বজায় থাকে।

সুপারিশে আরও বলা হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো চালুর পর বিদ্যমান ১০ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয় করা যেতে পারে।

২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন কোনো পে-স্কেল কার্যকর হয়নি। ফলে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/এএসএফ