ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বিজয়ী হলে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্রে পাম্পে প্রতি গ্যালন জ্বালানি তেলের দাম কমে ৩ ডলারে নেমে আসবে এবং পরে তা ২ ডলারের নিচেও চলে যেতে পারে।সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান।
সেখানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাম্পগুলোতে প্রতি গ্যালন জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে ৩ ডলারে নেমে আসবে। এরপর সেটি আরও কমে ২ ডলারের নিচে চলে যেতে পারে। এক গ্যালনে প্রায় ৩ দশমিক ৮ লিটার তেল থাকে।ট্রাম্প আরও বলেন, তেলের দাম খুব দ্রুতই কমে যাবে। একই পোস্টে তিনি আবারও দাবি করেন, ইরান ‘কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবে না’।এদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়ছে মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিতে। দেশটির বিভিন্ন পাম্পে সম্প্রতি ডিজেলের দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাক, ট্রেন, নৌযান ও বাসের মতো বাণিজ্যিক পরিবহনের পাশাপাশি কৃষি ও নির্মাণ খাতের বিভিন্ন যানবাহনেও ব্যাপকভাবে ডিজেল ব্যবহৃত হয়। ফলে জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৫ দশমিক ৮৫ ডলারে পৌঁছেছে। এক বছর আগে একই সময়ে এই দাম ছিল ৩ দশমিক ৭১ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বর্তমান ডিজেলের দাম ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সময়কার রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই পাইকারি বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে।এই পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের ওপর জ্বালানির উচ্চমূল্যের চাপ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংকট মোকাবিলায় সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার সঙ্গেও একটি বড় তেল চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, গত শনিবার দুই দেশের মধ্যে নতুন একটি চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তির আওতায় দেশটির ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব তেলক্ষেত্রে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।প্রকল্পটিতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হবে। বিনিময়ে ভেনেজুয়েলা কর বাবদ ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পাবে বলে জানিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট।
/বিএসএস