• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৭ এএম


ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, সামনে ভয়ংকর সামরিক অভিযান?

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৬ জুলাই ২০২৬ ৫:২৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে সরাসরি স্থলসেনা মোতায়েন করে দেশটির সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস এবং সেখানে সংরক্ষিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অগ্রগতি না হওয়ায় পেন্টাগনের ভেতরে এমন একটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে শনিবার (২৫ জুলাই) বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের উপকমিশনার জোসেফ রজার্স বলেন, কূটনৈতিক আলোচনায় দ্রুত কোনো সমাধান না আসায় ইরানের পারমাণবিক উপাদান অপসারণের সবচেয়ে সম্ভাব্য উপায় সামরিক অভিযানই হতে পারে।

প্রতিবেদনে সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্রের বরাতে বলা হয়, এই অভিযানে হাজারো মার্কিন স্থলসেনাকে ইরানের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশ করতে হতে পারে। পথে বিস্ফোরক ফাঁদ এড়িয়ে অগ্রসর হওয়া, ধ্বংসস্তূপ অপসারণ, পুরো এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা এবং পরে বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জোসেফ রজার্সের ভাষায়, এটি সামরিক ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল বা অন্যতম জটিল অভিযান হতে পারে। তিনি বলেন, এটি হবে বিশাল লজিস্টিকনির্ভর একটি যুদ্ধকালীন অভিযান। ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হলেও তারা এখনও উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই অভিযানে মার্কিন স্পেশাল অপারেশন্সের সিল টিম সিক্সের সিলভার স্কোয়াড্রন, দ্বিতীয় রেঞ্জার ব্যাটালিয়ন এবং ২১তম অর্ডন্যান্স কোম্পানি অংশ নিতে পারে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ফোরদো ও ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব ২১তম অর্ডন্যান্স কোম্পানির ওপর থাকতে পারে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের কাছে ২০ হাজার পাউন্ডের বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। রজার্সের মতে, এসব উপাদান নিরাপদে সরিয়ে নিতে হলে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর চারপাশে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা, স্থলপথ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং বিমানঘাঁটি পর্যন্ত নিরাপদ রসদ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি হবে। একই সঙ্গে ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য পাল্টা হামলাও মোকাবিলা করতে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে (এনএসসি) ইরানের গণবিধ্বংসী অস্ত্রবিষয়ক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রিচার্ড গোল্ডবার্গ বলেন, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এ ধরনের অভিযান কতদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব এবং কীভাবে সব সেনাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যাবে। তার মতে, পুরো অভিযানের সময় আকাশপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আকস্মিক হামলার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্র যেমন লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে জানে, তেমনি ইরানও সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সচেতন। এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইরান ইসফাহানের টানেলগুলোতে মাইন ও বিস্ফোরক পেতে রেখেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত এক মাসে নাতাঞ্জ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র থেকে শত শত সেন্ট্রিফিউজ সরিয়ে নেওয়ার পর পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নতুন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে আলোচনায় এসেছে। রিচার্ড গোল্ডবার্গ বলেন, সেখানে কতগুলো সেন্ট্রিফিউজ রয়েছে তা নিশ্চিত নয়। এগুলো ধ্বংস করা হবে নাকি সরিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

তার মতে, যদি পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে বিশেষ অভিযান চালানো হয়, তবে তার কারণ হবে শুধুমাত্র বিমান হামলা দিয়ে স্থাপনাটি ধ্বংস করা সম্ভব নয় বলে ধারণা করা। তিনি বলেন, স্থাপনার নকশা ও দুর্বল অংশ সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যের ওপরই নির্ভর করবে বিমান হামলা যথেষ্ট হবে কি না। প্রয়োজনে বিশেষ বাহিনী গোপনে প্রবেশ করে বিস্ফোরক স্থাপন করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করার কৌশলও গ্রহণ করা হতে পারে।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

/বিএসএস