‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আপাতত তাদের আন্দোলন স্থগিত করেছে। তবে এটিকে কোনো সমাপ্তি নয়, বরং দীর্ঘ পথচলার সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংগঠনটির নেতা অভিজিৎ দীপকে।
রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সামাজিক ও শিক্ষাগত অধিকার আদায়ের এই সংগ্রাম কেবল শুরু হয়েছে, সামনে আরও অনেক পথ অতিক্রম করতে হবে।নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির নেতৃত্বে টানা ৩৭ দিন ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনের পর আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো পূরণ হওয়ায় আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
তবে আন্দোলনকে সাময়িক বিরতি হিসেবে দেখছেন অভিজিৎ দীপকে।ভিডিও বার্তায় ৩০ বছর বয়সী এই যুবনেতা বলেন, গত ৩৭ দিনের আন্দোলন ছিল অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। তিনি স্মৃতিচারণ করে জানান, আন্দোলনের প্রতিটি দিন অনিশ্চয়তায় কেটেছে। পরদিন কী ঘটবে বা সন্ধ্যার পরিস্থিতি কেমন হবে—এসব দুশ্চিন্তা ছাড়াই অনেকদিন পর অন্তত একটি রাত নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পেরেছেন।
আন্দোলনের সময় নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে তীব্র জ্বরে ভোগার কারণে শনিবার যন্তর মন্তরে উপস্থিত আন্দোলনকারীদের প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ৩৭ দিন ধরে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে যেসব শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। তার ভাষায়, দেশের যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের এই আত্মত্যাগ ভারতের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেছে।
আন্দোলনের সময় যারা বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন বা সমালোচনা করেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা এবং যৌক্তিক প্রশ্ন আন্দোলনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং সফলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।উল্লেখ্য, গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আত্মপ্রকাশ করে।
অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি ভারতের ‘জেন-জি’ ও তরুণদের একটি বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। রাজধানীতে ছাত্রসমাজের ‘ইনকিলাব’ স্লোগানে মুখর আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পাশাপাশি সরকার মামলা প্রত্যাহারসহ আন্দোলনকারীদের অন্যান্য দাবিও মেনে নেওয়ায় গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে টানা ৩৭ দিনের এই বিক্ষোভ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
/বিএসএস