• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৫ এএম


এক ঘূর্ণিঝড়েই বিলুপ্ত বিশ্বের ৭ শতাংশ বিরল ওরাংওটাং

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৭ জুন ২০২৬ ১১:৪৬ পিএম

ভয়াবহ এক ঘূর্ণিঝড়, প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও বিধ্বংসী ভূমিধসের কারণে বিশ্বের অন্যতম বিরল প্রজাতির তপানুলি ওরাংওটাংয়ের প্রায় ৭ শতাংশ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য।

চলতি মাসে ‘কারেন্ট বায়োলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর মাসে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘সেনিয়ার’-এর তাণ্ডবে বন্য পরিবেশে টিকে থাকা প্রায় ৮০০ তপানুলি ওরাংওটাংয়ের মধ্যে অন্তত ৬০টি মারা যায়। এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।

বিশ্বের অন্যতম বিরল বানর তপানুলি ওরাংওটাং আগে থেকেই আবাসস্থল সংকটের কারণে চরম ঝুঁকিতে ছিল। সড়ক নির্মাণ, কৃষিকাজ ও শিল্পায়নের জন্য বনভূমি উজাড় হওয়ায় তাদের বাসস্থান ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছিল। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট চরম আবহাওয়া তাদের অস্তিত্বকে আরও বেশি হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

‘সুনামি অ্যান্ড ডিজাস্টার মিটিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ারের প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ায় ১৬ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বৃষ্টিপাতের অন্যতম।

এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং বৃষ্টিপাতের তীব্রতা ৯ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। এই দুর্যোগে এক হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এ ছাড়া সুমাত্রার উত্তরাঞ্চলের বাতাং তোরু বাস্তুতন্ত্রের পশ্চিম অংশ, যা ওরাংওটাংদের প্রধান আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত, সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। ভূমিধসের কারণে ওই অঞ্চলের প্রায় ১২ শতাংশ বনভূমি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

গবেষকদের মতে, অতিবৃষ্টির কারণে মাটি অতিরিক্ত পানি শোষণ করে ভারী হয়ে পড়ায় পাহাড়ের একাংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। এ ধরনের ভূমিধস সাধারণত পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ঘটে, ফলে ওরাংওটাংগুলোর পালিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় ছিল না।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই দুর্যোগে ৫৮টি তপানুলি ওরাংওটাং মারা গেছে, যা ওই অঞ্চলের মোট ওরাংওটাং জনসংখ্যার ১১ শতাংশ এবং বিশ্বব্যাপী এই প্রজাতির মোট সংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। কারণ জনসংখ্যার ঘনত্বের আনুমানিক হিসাবের ভিত্তিতে এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। তপানুলি ওরাংওটাংয়ের বংশবৃদ্ধির হার অত্যন্ত ধীর। একটি মা ওরাংওটাং সাধারণত প্রতি ছয় থেকে নয় বছরে মাত্র একটি বাচ্চার জন্ম দেয়। ফলে হারিয়ে যাওয়া জনসংখ্যা পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন।

এই প্রজাতির ওরাংওটাংগুলো সুমাত্রার বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন এলাকায় ছোট ছোট দলে বসবাস করে। ফলে একটি মাত্র ঘূর্ণিঝড় বা ভূমিধসও তাদের অস্তিত্বের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সাম্প্রতিক এই দুর্যোগের পর বেঁচে থাকা ওরাংওটাংগুলোর প্রজনন ক্ষমতা যদি কমে যায়, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।