আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পশ্চিমবঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে রেড রোডে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের চলাচল সীমিত করার বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতা দিলীপ ঘোষ।
রেড রোডে ঈদের নামাজ আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নামাজ পড়তে হলে বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানে চলে যান।” তার এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার তার সফর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং রবিবার মূল যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। রেড রোডে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এই আয়োজনকে ঘিরে নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির স্বার্থে রেড রোড সাত দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। গত রবিবার রাত ১০টা থেকে শুরু করে আগামী রবিবার (২১ জুন) পর্যন্ত ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল স্থগিত থাকবে। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠানস্থলে মঞ্চ নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে।
রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও চলাচল ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সফরে এলে নিরাপত্তার কারণে বিভিন্ন সড়ক বন্ধ থাকাই স্বাভাবিক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যেখানে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম, সেই রেড রোডেই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। অন্য কোনো সড়কে একই আয়োজন করা হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে রেড রোডে ঈদের নামাজের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসতেই তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “ওনারা কোন হরি-দাস-পাল যে তাদের জন্য রাস্তা আটকাতে হবে? প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাস্তা আটকানো যায়, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য রাস্তা আটকানো যায়—এটা ঠিকই আছে। প্রধানমন্ত্রী বছরে একবারই আসছেন।”
এরপর তিনি আরও বলেন, “১০৭ বছর ধরে তো (নামাজ) চলেছে, এখন একবার বন্ধ করে দেওয়াতে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? যান বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে চলে যান, সেখানে গিয়ে নামাজ পড়ুন, কেউ কিছু বলবে না। এখানে এসব আর চলবে না। সরকার পাল্টে গেছে। এগুলো বন্ধ করার জন্যই লোকে সরকার পাল্টেছে। আর এগুলো বন্ধ হবেই।”
/এসএন