মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সরাসরি উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার দাবি, প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে ইসলামি রেভ্যুলুশনারি গার্ডস করপসের (আইআরজিসি) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে।
ইরানি সূত্রের দাবি, সংঘর্ষের সময় আইআরজিসির কঠোর প্রতিরোধের মুখে মার্কিন বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড সেন্টকম এ দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের কোনো যুদ্ধযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং বাহিনীও স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এ ঘটনার পরপরই হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে আইআরজিসি। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানিবাহী ট্যাংকারের চলাচল আপাতত স্থগিত থাকবে।
আইআরজিসি আরও সতর্ক করে বলেছে, এই নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং কোনো জাহাজ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
অন্যদিকে সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে মার্কিন এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে আইআরজিসি।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা দুটি জাহাজকে আটক করা হয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মর্গানের এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে আগের তুলনায় মাত্র ১৫ শতাংশ জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় চলমান পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
/এএসএফ