• ঢাকা
  • বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১২ এএম


শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে ভারতজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ‘ককরোচ জাতীয় পার্টির’

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ জুন ২০২৬ ৭:০৯ পিএম

আগেই ‘ককরোচ জাতীয় পার্টি’ (সিজেপি)-এর সমাবেশে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন লাদাখের বিশিষ্ট পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শনিবার দুপুরে তিনি দিল্লির যন্তর মন্তরে গিয়ে সিজেপির প্রথম বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন।

সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে ‘তেলাপোকারা’ দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তুলবে। পাশাপাশি আগামী ১৩ জুন যন্তর মন্তরে আরেকটি সমাবেশ আয়োজনের কথাও জানানো হয়।

মহারাষ্ট্রে এনসিপি (শরদ পাওয়ার) শিবিরের নেতা রোহিত পাওয়ারও সিজেপির দাবি-দাওয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিট ও সিবিএসই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অরাজকতার বিরুদ্ধে সিজেপির আন্দোলনে দেশের তরুণদের ব্যাপক সাড়া সরকারের ব্যর্থতা এবং সরকারি নীতির প্রতি অনাস্থারই বহিঃপ্রকাশ। তাঁর মতে, এই সমাবেশ তরুণসমাজের হতাশার চিত্র স্পষ্ট করেছে।

স্থানীয় সময় বিকেল চারটা পর্যন্ত সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরা আন্দোলনের নেতা অভিজিৎ দীপকে ঘোষণা দেন, শনিবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।

তিনি বলেন, সারা সপ্তাহ দেশজুড়ে তরুণসমাজ বিক্ষোভ কর্মসূচি চালাবে। এরপরও শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে ১৩ জুন শনিবার আবার যন্তর মন্তরে সিজেপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সোনম ওয়াংচুক অভিজিৎ দীপকের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘এটাকে শুধু বিক্ষোভ বলা ঠিক হবে না। সরকারের প্রতি এটি একধরনের আবেদন। পদত্যাগের দাবির চেয়েও আমি চাই, সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে যে দুর্নীতি হয়েছে, তার দায় স্বীকার করুক।’

তিনি আরও বলেন, সরকার এই সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে এবং তা বাতিল করেনি, যা ইতিবাচক দিক। গণতন্ত্রে মানুষের ক্ষোভ প্রকাশের অধিকার থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভবিষ্যতেও সরকার একইভাবে মানুষের মত প্রকাশের সুযোগ দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন ওয়াংচুক।

ছয় মাস বন্দি থাকার পর সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মুক্তি পান সোনম ওয়াংচুক। ‘দেশবিরোধী’ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে তিনি মুক্তি পান।

সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন জানিয়ে ৫৯ বছর বয়সী এই পরিবেশবিদ লিখেছিলেন, ‘এখন যাব না তো কবে যাব? এটাই তো যাওয়ার সময়।’

শনিবারের সমাবেশ শেষে ওয়াংচুক ও অভিজিৎ দীপকে একসঙ্গে যন্তর মন্তর ত্যাগ করেন।

দেশে ফেরার আগে অভিজিৎ দীপকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার আশঙ্কা, দেশে ফিরলে আমার জায়গা হবে তিহার জেলে।’ শনিবার সমাবেশস্থলে সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তাঁর মা ও বোনও একই ধরনের আশঙ্কা করেছিলেন।

শনিবার দুপুরে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ লেখেন, বিদেশে যাওয়ার সময় তাঁর মা যতটা ভয় পেয়েছিলেন, দেশে ফেরার সময় তার চেয়ে বেশি আতঙ্কিত ছিলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, দেশে ফিরেই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হবে। অভিজিৎ প্রশ্ন তোলেন, ‘আর কত দিন আমরা এভাবে ভয়ের মধ্যে বাঁচব?’

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এক মামলার শুনানিতে দেশের একাংশের তরুণদের নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এমন কিছু তরুণ রয়েছেন, যাঁরা কোথাও প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি, কোনো কাজও পাননি। তাঁদের কেউ সাংবাদিকতা করছেন, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়, কেউ আইন পেশায় বা তথ্য জানার অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। এই তরুণদের তিনি ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

এর পর থেকেই জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত অভিজিৎ দীপকে ওই ‘তেলাপোকা’ শব্দ থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ জাতীয় পার্টি’ বা সিজেপি গঠন করেন।

নিট বা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট হলো ভারতের সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জন্য একমাত্র সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা। সম্প্রতি এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখ লাখ শিক্ষার্থী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

এরপর থেকেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। একই দাবি তোলে ককরোচ জাতীয় পার্টিও। সিজেপির দাবির প্রতি লাখো মানুষের সমর্থন মিললেও শিক্ষামন্ত্রী এখনো দায় স্বীকার করেননি। এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গণ্ডি ছাড়িয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সরাসরি পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘তেলাপোকারা’। শনিবার সেই আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।