• ঢাকা
  • রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫০ এএম


এপস্টিনের ‘সুই/সাইড নোট’ প্রকাশ! জেফরি এপস্টিনের হাতে লেখা নোটে কী ছিল?

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ মে ২০২৬ ৯:৩৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত গতকাল বুধবার একটি নথি প্রকাশ করেছে, যেটিকে প্রয়াত জেফরি এপস্টিনের হাতে লেখা ‘আত্মহত্যার নোট’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ওই নোটে লেখা একটি বাক্যে বলা হয়েছে, ‘নিজের বিদায়ের সময় বেছে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া সত্যিই একধরনের সৌভাগ্য।’

২০১৯ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটান কারাগার থেকে শিশু যৌন নিপীড়নকারী হিসেবে পরিচিত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি নিজের কারাকক্ষেই আত্মহত্যা করেছেন।

যৌন অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এপস্টিনের বিরুদ্ধে সে সময় বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি চলছিল।

প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, হাতে লেখা এই নোটটি দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নিকোলাস টার্টাগ্লিওন খুঁজে পেয়েছিলেন। এপস্টিন ও টার্টাগ্লিওন কিছু সময় একই কারাগারে পাশাপাশি কক্ষে বন্দী ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ কেনেথ কারাস দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের অনুরোধে নোটটি প্রকাশ করেন বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে নিউইয়র্ক টাইমস গত সপ্তাহে এই ‘সুইসাইড নোট’–এর অস্তিত্ব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। টার্টাগ্লিওনের মামলার বিচারও করেছিলেন এই বিচারক কেনেথ কারাস।

টার্টাগ্লিওনের ফৌজদারি মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নথি হিসেবে এই নোটটি আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল। পরে বিচারক কারাস এটিকে বিচারিক নথি হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নেন এবং বলেন, এ বিষয়ে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।

মাদকসংক্রান্ত হত্যাকাণ্ডের চারটি মামলায় টার্টাগ্লিওনকে চারটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা তাকে ধারাবাহিকভাবে ভোগ করতে হচ্ছে।

বিচারক তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন, নথিটি জনসমক্ষে প্রকাশ না করার মতো কোনো আইনগত কারণ পাওয়া যায়নি। তবে তিনি নোটটির সত্যতা যাচাই করেননি এবং এটি কীভাবে তদন্তকারীদের হাতে এসেছে, তাও নির্ধারণ করেননি। এসব বিষয় নথি প্রকাশের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘কোনো পক্ষই নোটটি গোপন রাখার পক্ষে এমন কোনো কারণ দেখাতে পারেনি, যা এটিকে গোপন রাখার যুক্তি দিতে পারে।’

হলুদ রঙের লিগ্যাল প্যাডে হাতে লেখা এই নোটটি টার্টাগ্লিওনের আইনজীবীরা আদালতে জমা দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে ম্যানহাটান কারাগারে এপস্টিনের সঙ্গে প্রায় দুই সপ্তাহ একই কক্ষে ছিলেন টার্টাগ্লিওন।

আদালতের নথিতে প্রকাশিত নোটের ছবিতে লেখা ছিল, ‘তারা এক মাস ধরে আমাকে নিয়ে তদন্ত করছে—কিছুই পায়নি! তারপরও ১৫ বছরের পুরোনো অভিযোগ আনা হয়েছে।’

এপস্টিনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর সঙ্গে যৌনকর্মে জড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল। ওই মামলায় তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং বিতর্কিত এক চুক্তির মাধ্যমে স্বল্প মেয়াদে কারাদণ্ড পান।

পরে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচার এবং যৌনকর্মে বাধ্য করার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তিনি নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় কিশোরীদের ওপর যৌন নির্যাতন চালাতেন এবং তাদের যৌনকর্মে নিয়োগ দিতেন।

নোটটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে, যখন এপস্টিনকে ম্যানহাটানের কারাকক্ষে গলায় দাগসহ জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

টার্টাগ্লিওন পরে সাক্ষ্যে বলেন, তারা যে কারাকক্ষে ছিলেন সেখানে একটি বইয়ের ভেতরে নোটটি রাখা ছিল।

এর কয়েক সপ্তাহ পর, ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট কারাগার থেকে এপস্টিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরে বলা হয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

টার্টাগ্লিওন গত বছর একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারেও এই নোটের কথা উল্লেখ করেন। তবে গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক টাইমস বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে এটি আবার আলোচনায় আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নোটটি কখনোই ফেডারেল তদন্তকারীরা দেখেননি এবং বিচার বিভাগ এপস্টিন–সংক্রান্ত যে বিপুল নথি প্রকাশ করেছে, তার মধ্যেও এটি ছিল না।

নথি প্রকাশের নির্দেশ দিতে গিয়ে বিচারক ব্যক্তিগত গোপনীয়তার উদ্বেগও খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, এপস্টিন ইতিমধ্যেই মারা গেছেন এবং নোটটি ঘিরে জনপরিসরে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে।