• ঢাকা
  • সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০০ পিএম


ইরান বলছে “হাস্যকর ও অবান্তর”

ইরানের বিরুদ্ধে ডলফিনের পেটে মাইন বেঁধে ছেড়ে দেবার অভিযোগ করল যুক্তরাষ্ট্র!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩ মে ২০২৬ ৮:৪৬ পিএম

সম্প্রতি The Wall Street Journal-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরান নাকি ডলফিন ব্যবহার করে মাইন হামলার পরিকল্পনা করছে। এই দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে—তবে একইসঙ্গে প্রশ্নও তুলেছে সংবাদটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।

প্রতিবেদনটির একটি বড় সমালোচনার জায়গা হলো এর উৎস। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে “বেনামী ইরানি কর্মকর্তা”—কিন্তু তাদের পরিচয়, পদ বা নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে বিশ্লেষকদের একাংশ এটিকে “থ্রেট ইনফ্লেশন” বা হুমকি অতিরঞ্জনের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। Iranian Foreign Ministry এ দাবি গুরুত্ব না দিয়ে একে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।

তবে এই বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসে—ডলফিনের সামরিক ব্যবহার নতুন কিছু নয়। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ডলফিনকে সামরিক কাজে ব্যবহার করে আসছে। United States Navy-এর অধীনে পরিচালিত “Marine Mammal Program”-এ ডলফিনকে মাইন শনাক্তকরণ, ডুবুরি সনাক্ত করা এবং নৌঘাঁটি সুরক্ষার মতো কাজে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, ডলফিনের প্রাকৃতিক সোনার (echolocation) অত্যন্ত উন্নত। তারা ঘোলা পানি বা অন্ধকারেও বস্তু শনাক্ত করতে পারে, যা অনেক সময় আধুনিক যন্ত্রের চেয়েও কার্যকর।

এই প্রেক্ষাপটে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরানকে অস্বাভাবিক বা “অদ্ভুত” হুমকি হিসেবে তুলে ধরার মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা থাকতে পারে। আবার অন্যদের মতে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়গুলো আগেভাগে তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

সব মিলিয়ে, বিষয়টি স্পষ্ট—এ ধরনের প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে উৎস, প্রেক্ষাপট এবং প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তথ্য যেমন শক্তি, তেমনি ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্যও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।