ইরানি বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে তা ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, এই পদক্ষেপ উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়াবে।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি কোনো নৌ-অবরোধ বা বিধিনিষেধ কখনোই টেকসই হতে পারে না। এ ধরনের উদ্যোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের বদলে উল্টো উত্তেজনা বাড়াবে এবং স্থায়ী স্থিতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় নৌ উপস্থিতি জোরদার করেছে এবং ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সংঘাতে নতুন ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইরান।
দেশটির নৌবাহিনীর কমান্ডার শাহরাম ইরানি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই এমন একটি অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, যা শত্রুপক্ষ ‘গভীরভাবে ভয় পায়’। তার ভাষায়, “এটা তাদের খুব কাছেই আছে… আশা করি তারা হার্ট অ্যাটাক করবে না।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান। সেই প্রস্তাবে পারমাণবিক আলোচনা সাময়িক স্থগিত রাখার কথাও ছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন।
এর পরই ওয়াশিংটন হরমুজ অঞ্চলে নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের নৌবাহিনী প্রধান শাহরাম ইরানি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত ফল পাওয়ার যে ধারণা ছিল, তা এখন ‘সামরিক একাডেমিগুলোতে হাসির বিষয়’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হওয়ায় এই অঞ্চলের অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।