• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২০ পিএম


হংকংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬৮ মৃত্যু, মাথা নত করে ক্ষমা চাইলেন সরকারপ্রধান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৪২ পিএম

হংকংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬৮ মৃত্যু, মাথা নত করে ক্ষমা চাইলেন সরকারপ্রধান

হংকংয়ের তাই পো এলাকার ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন অঞ্চলটির প্রধান নির্বাহী জন লি। একই ঘটনায় রাজনৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন আবাসনমন্ত্রী উইনি হো। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঘটে যাওয়া ওই অগ্নিকাণ্ডে ১৬৮ জন নিহত হন এবং অসংখ্য মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে গঠিত বিচারক-নেতৃত্বাধীন স্বাধীন কমিটির এক হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তদন্তে ভবনটির সংস্কারকাজে অনিয়ম এবং সরকারি সংস্থাগুলোর তদারকির ঘাটতির বিষয় উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাথা নত করে ক্ষমা চাইলেন জন লি

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাহী জন লি এবং আরও সাতজন শীর্ষ কর্মকর্তা একসঙ্গে মাথা নত করে ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

জন লি বলেন, ‘প্রধান নির্বাহী এবং সরকারপ্রধান হিসেবে আমি গভীরভাবে শোকাহত। এসএআর সরকারের পক্ষ থেকে আমি ভুক্তভোগী এবং বৃহত্তর জনসাধারণের কাছে ক্ষমা চাইছি।’

হংকংয়ের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের পর সরকারের জবাবদিহি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকারপ্রধানের ক্ষমা প্রার্থনা এবং আবাসনমন্ত্রীর পদত্যাগ সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আবাসনমন্ত্রীর পদত্যাগ

অগ্নিকাণ্ডের সময় ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক ভবনটিতে সংস্কারকাজ চলছিল। তদন্তে আবাসন ব্যুরোর স্বাধীন চেকিং ইউনিটসহ চারটি সরকারি বিভাগের তদারকিতে ব্যর্থতার বিষয় উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার রাজনৈতিক দায় স্বীকার করে আবাসনমন্ত্রী উইনি হো পদত্যাগ করেছেন। সংস্কারকাজের তদারকি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব পালনে ঘাটতির বিষয়টি তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে।

সংস্কারকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

তদন্ত প্রতিবেদনে ভবনটির সংস্কারের জন্য প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের একটি চুক্তিতে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির পাশাপাশি সরকারি তদারকির ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর নির্মাণশিল্পে দুর্নীতি বন্ধে কঠোর আইনি সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন জন লি। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় অপরাধীদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ভারী জরিমানার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে।

জবাবদিহি ও নিরাপত্তা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি

ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ভবন সংস্কারের নিয়ম, নির্মাণশিল্পের তদারকি ও সরকারি সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকার ক্ষমা প্রার্থনা, মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং আইনি সংস্কারের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নির্মাণকাজে অনিয়ম ও তদারকির ঘাটতি কতটা কমানো সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে ঘোষিত সংস্কার বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর।

/এএসএফ