• ঢাকা
  • রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম


পশ্চিমবঙ্গে থানায় নেওয়ার পর মুসলিম যুবকের মৃত্যু, পরিবারের নির্যাতনের অভিযোগ!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৫:২৬ এএম

চুরির সন্দেহে থানায় নেওয়ার পর মুসলিম যুবকের মৃত্যু, পশ্চিমবঙ্গে পরিবারের নির্যাতনের অভিযোগ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার দুবরাজপুর থানায় চুরির সন্দেহে নিয়ে যাওয়ার পর বরজাহান শাহ (৩৫) নামের এক মুসলিম যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে বরজাহানকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে এবং সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তবে পুলিশের দাবি, চুরির সন্দেহে উত্তেজিত জনতার মারধরের শিকার হয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুবরাজপুর থানার অন্তর্গত জশপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পচিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা বরজাহান শাহ পার্শ্ববর্তী একটি এলাকায় গেলে চুরির সন্দেহে তাঁকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর বরজাহানের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। এতে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। পরে তাঁকে দুবরাজপুর মনসায়ায় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

‘মুখ ও নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল’, অভিযোগ স্ত্রীর

নিহত বরজাহানের স্ত্রী আজমিরা বিবি অভিযোগ করে বলেন, “আমার চোখের সামনেই স্বামী মারা গেছেন। তাঁর মুখ ও নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল। কিন্তু পুলিশ চিকিৎসা না করিয়ে বিষয়টিকে ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।”

নিহতের ছেলে ইসমাইল শাহ এবং এক প্রত্যক্ষদর্শী শেখ জাহাঙ্গীরের দাবি, থানার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

শেখ জাহাঙ্গীর জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি বরজাহানকে থানার ভেতরে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছেন।

থানার সামনে বিক্ষোভ, ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বরজাহানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুবরাজপুর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিচার দাবি করেন। হাসপাতাল থেকে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় উত্তেজিত গ্রামবাসী গাড়ি আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

নিহতের শ্বশুর মোবারক খান চুরির সন্দেহে বরজাহানকে মারধরের অভিযোগে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে দুবরাজপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এদিকে, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য বরজাহানের মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

পুলিশের দাবি, জনতার মারধরে আহত হয়েছিলেন বরজাহান

পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রশাসন। বোলপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিষেক রায় বলেন, “চোর সন্দেহে জনতা তাঁকে মারধর করেছিল। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে আনে।”

তিনি আরও জানান, বরজাহানের বিরুদ্ধে আগে মাতলামি ও ছোটখাটো অপরাধের কিছু অভিযোগ ছিল। তবে তিনি কেন ওই বাড়িতে ঢুকেছিলেন এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সব দিক বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে বরজাহানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

/এএসএফ