• ঢাকা
  • সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩১ এএম


ওমরাহর আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত, রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ইউসুফ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ২:০৪ পিএম

ওমরাহর পথে রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, প্রাণ গেল বাবার

সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পরিবারের সঙ্গে ওমরাহ পালনে যাওয়ার পথে প্রাণ হারিয়েছেন মোহাম্মদ ইউসুফ আলি। বড় ছেলেকে নিয়ে জুস কিনতে বাইরে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় তাঁর বড় ছেলেও গুরুতর আহত হয়েছে। বর্তমানে ইউসুফের দুই ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় নিহত ১৩ জনের একজন ছিলেন ইউসুফ। ওই ঘটনায় আরও ৩০০ জন আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছেলের জন্য জুস কিনতে গিয়ে হামলার শিকার

পরিবারের সদস্যরা মদিনাগামী ফ্লাইটের জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে জুস কিনতে বাইরে যান ইউসুফ আলি। বিমানবন্দর থেকে মাত্র কয়েক শ মিটার দূরে থাকতেই হুথিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ওই স্থানে আঘাত হানে। এতে বাবা ও ছেলে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইউসুফের অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন।

ইউসুফের চাচাতো ভাই ও প্রতিবেশী মোহাম্মদ আকবর হাশমি আরব নিউজকে বলেন, ‘ইউসুফ মারা গেছেন। তার একটি পা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় দিনেই তিনি মারা যান।’

বড় ছেলের কলেজে ভর্তি উপলক্ষে ওমরাহর পরিকল্পনা

হাশমি জানান, ইউসুফের বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হওয়ার পর পরিবারটি ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা করেছিল। এ আয়োজনের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন তাঁরা।

তিনি বলেন, ‘বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হওয়ার পর ওমরাহর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এটি ছিল সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপায়।’

কিন্তু সেই আনন্দের সফরই পরিবারটির জন্য শোকাবহ হয়ে ওঠে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর ইউসুফের মৃত্যু হয়।

হাসপাতালে দুই ছেলে, ছাড়পত্র পেয়েছেন মেয়ে ও খালা

হামলায় ইউসুফের দুই ছেলে আহত হয়ে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর মেয়ে ও খালা তুলনামূলক কম আহত হয়েছিলেন। তাঁরা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

পরিবারের জন্য আনন্দের ওমরাহ সফর শেষ পর্যন্ত প্রাণহানি ও স্বজনদের আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোকে পরিণত হয়েছে।

/এএসএফ