• ঢাকা
  • সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩১ এএম


গুজরাটে নবরাত্রির সংঘর্ষে প্রাণ গেল মুসলিম যুবকের, আটক ১৬

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১১:২৮ পিএম

গুজরাটে নবরাত্রির সংঘর্ষে প্রাণ গেল মুসলিম যুবকের, আটক ১৬

ভারতের গুজরাট রাজ্যের খেড়া জেলার ডাকোর শহরে নবরাত্রি উদযাপনের সময় সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন ২১ বছর বয়সী মুসলিম যুবক সুলতান ইকবালভাই শেখ। গত ১৪ অক্টোবর রাতে শহরের নাভি নগরী এলাকার সত্যম সোসাইটির কাছে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মোট আটজন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই পক্ষের আটজন করে মোট ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত পৌরসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ধরন এবং একজন নির্দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ১৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সেই বিরোধ বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।

তবে ঘটনাটিকে কেবল দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হিসেবে মেনে নিতে নারাজ সুলতানের পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে সুলতান ও তাঁর বাবার ওপর হামলা চালায়। আহত হওয়ার পর তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেও দীর্ঘ সময় লেগেছে বলে দাবি করেছেন স্বজনেরা।

চিকিৎসায় বিলম্বের অভিযোগ পরিবারের

পরিবারের সদস্যরা জানান, সুলতান তাঁর বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন। পরিবারের মধ্যে তিনিই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছিলেন। সংঘর্ষের রাতে সুলতান ও তাঁর বাবা দুজনই গুরুতর আহত হন।

স্বজনদের দাবি, আহত অবস্থায় তাঁদের প্রথমে ডাকোরের সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু আঘাত গুরুতর হওয়ায় সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁদের চিকিৎসাসেবা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। পরে তাঁদের নাদিয়াদে নেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টার পথ পেরিয়ে সেখানে পৌঁছানোর পর সুলতানকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

সুলতানের চাচা আলতাফের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্স আসতেও প্রায় ৩০ মিনিট দেরি হয়েছিল। তাঁর দাবি, দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবে চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি এবং চিকিৎসায় বিলম্বের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডিজের শব্দে চিৎকার শোনা যায়নি, দাবি চাচার

সুলতানের চাচা আরও অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলের কাছেই নবরাত্রি উদযাপনের অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে উচ্চশব্দে ডিজে গান বাজানো হচ্ছিল। গানের বিকট শব্দের কারণে হামলার সময় মানুষের চিৎকার ও আর্তনাদ আশপাশের লোকজন শুনতে পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

দুই পক্ষের আটজন করে আটক

খেড়া জেলার পুলিশ সুপার বিজয় প্যাটেল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত ১৬ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুই পক্ষ থেকেই আটজন করে মোট ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডাকোরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে দুই পক্ষের মোট আটজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন মুসলিম এবং অপর পক্ষের তিনজন রয়েছেন।

‘ছেলেকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে’

সুলতানের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা বা দুই পক্ষের মধ্যে সাধারণ সংঘর্ষের বর্ণনা মেনে নিতে নারাজ স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, সুলতান কোনো ঝামেলায় জড়াতেন না; তিনি পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন।

পরিবারের এক সদস্য বলেন, “আমার ছেলে কখনো কোনো ঝামেলায় জড়াত না, পড়াশোনা নিয়েই থাকত। ওকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। একটুও দয়া হলো না ওদের?”

ঘটনাটি স্থানীয় নির্বাচনী বিরোধ থেকে শুরু হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলেও, সুলতানের পরিবারের অভিযোগ, তাঁর ও তাঁর বাবার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছিল। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, হামলার ধরন এবং চিকিৎসায় বিলম্বের অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

/এএসএফ