• ঢাকা
  • সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩১ এএম


জবিতে আবারও আয়োজন করা হলো গরুভোজের, সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের জন্য কাওয়ালি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৯:২৪ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পশু জবাই থেকে বিরত থাকার প্রশাসনিক নির্দেশনার প্রতিবাদে শুক্রবারের পর আবারও গরুভোজের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস। শনিবার (১৭ অক্টোবর) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গরুর মাংসের তেহারি বিতরণের পাশাপাশি সন্ধ্যায় কাওয়ালি অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়েছে।

শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের পাশে গরু জবাই করে সংগঠনটি। বিকেল সাড়ে ৩টায় কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তেহারি বিতরণ করা হবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিতে অংশ নিতে জনপ্রতি ৪০ টাকা নিবন্ধন ফি নেওয়া হচ্ছে। এ আয়োজনের জন্য ৮০ হাজার টাকায় একটি গরু কেনা হয়েছে। পাশাপাশি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য খাসির মাংসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব ওবায়দুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মীমাংসিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে মনোমালিন্য তৈরি হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে যে নেতিবাচক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, তা সঠিক নয়।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধর্ম ও মতের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস এই সম্প্রীতিভোজের আয়োজন করেছে। এতে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, আয়োজনের প্রস্তুতি আরও বড় পরিসরে নেওয়া হচ্ছে।

ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চাপিয়ে দেওয়া একটি সাম্প্রদায়িক সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীরা মেনে নিচ্ছেন না। গরুভোজের এই আয়োজনকে তিনি ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

শর্তসাপেক্ষে কর্মসূচির অনুমতি

প্রথমে আপত্তি জানালেও পরে শর্তসাপেক্ষে কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে শুক্রবার জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, শিক্ষার্থীরা গরুভোজের আয়োজন করেছিলেন। এতে প্রশাসনের আপত্তি থাকলেও সেদিনের পরিবেশ যথেষ্ট ভালো ছিল এবং সবকিছু সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছিল।

তিনি জানান, শনিবার বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস আবারও গরুভোজের আয়োজন করতে চাইলে প্রশাসন প্রথমে অনুমতি দিতে চায়নি। তবে সংগঠনটির নেতা মামুনুর রশিদ উপাচার্যকে ফোন করে অনুরোধ জানান। পরে শর্তসাপেক্ষে কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়।

প্রক্টর আরও জানান, শুক্রবার যে স্থানে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, শনিবারও একই স্থানে আয়োজন করতে হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পশু জবাই বন্ধে প্রশাসনের নির্দেশনা

প্রসঙ্গত, গত ১৪ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়।

ওই নির্দেশনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে গরু জবাই করেন শিক্ষার্থীরা। পরে গরু ও খাসির মাংস দিয়ে ভোজের আয়োজন করা হয়।

এর এক দিন পর একই দাবিতে আবারও কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। শনিবারের আয়োজনের অংশ হিসেবে গরুর মাংসের তেহারি বিতরণের পাশাপাশি সন্ধ্যায় কাওয়ালি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।

/এসএন