তীব্র খরা, অনাহার ও চরম অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আফগানিস্তানে দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে বাড়ছে শিশুবিয়ের প্রবণতা। ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে অনেক পরিবার তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাসন্তানদের বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এতে ১১ বছরের খাতিরার মতো হাজারো শিশুর ভবিষ্যৎ চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিনের খরা ও খাদ্যসংকটের কারণে অসংখ্য পরিবার জীবিকা নির্বাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। আয়-রোজগারের সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঋণ পরিশোধ এবং পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতে কেউ কেউ নিজেদের মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।দারিদ্র্যের এই নির্মম বাস্তবতায় শৈশব হারাচ্ছে অসংখ্য মেয়ে। যে বয়সে তাদের স্কুলে যাওয়ার, খেলাধুলা করার এবং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়সেই তাদের সংসারের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। অল্প বয়সে বিয়ের কারণে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।১১ বছর বয়সী খাতিরার মতো অনেক শিশুর জীবন এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে। পরিবারের আর্থিক সংকট ও বেঁচে থাকার লড়াইয়ের মূল্য দিতে হচ্ছে তাদের। দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকটের এই পরিস্থিতি শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।আফগানিস্তানের সংকটের সবচেয়ে করুণ দিক হলো, পরিবারের বেঁচে থাকার সংগ্রামে শিশুদের শৈশব ও ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিতে হচ্ছে। দারিদ্র্য, ঋণ ও খাদ্যসংকটের চাপ থেকে এসব পরিবারকে মুক্ত করতে কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে আরও অনেক শিশুর জীবন অল্প বয়সেই বদলে যেতে পারে।
/বিএসএস