• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম


সৌদিতে ১৩০০ বছরের প্রাচীন মসজিদের সন্ধান, পাথরে খোদাই করা নবীজি (সা.)-এর নাম

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৬:২৮ পিএম

সৌদি আরবের আল-বাহা অঞ্চলের আল-মাআল্লামাহ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে সন্ধান মিলেছে প্রায় ১৩ শত বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক মসজিদের। মসজিদটির কিবলার দেয়ালে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম উল্লেখ করে একটি প্রাচীন শিলালিপিও পাওয়া গেছে।

সৌদি হেরিটেজ কমিশনের প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজের চতুর্থ মৌসুমে মসজিদটির সন্ধান পাওয়া যায়। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, স্থাপনাটি হিজরি প্রথম শতাব্দীর। অর্থাৎ এটি ইসলামী সভ্যতার প্রাথমিক যুগের প্রায় ১৩ শতাব্দী আগের একটি স্থাপত্য নিদর্শন।

প্রাচীন এই মসজিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে কিবলার দেয়ালে পাওয়া শিলালিপিটিকে। পাথরের ওপর খোদাই করা ওই লেখায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ লেখা রয়েছে।

মসজিদটি স্থানীয় গ্রানাইট পাথর কেটে নির্মাণ করা হয়েছিল। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ মিটার এবং প্রস্থ ১০ মিটার। প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে স্থাপনাটিতে কিবলামুখী মেহরাব, প্রবেশপথ এবং একটি মিনারের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বাহ্যিক কাঠামোর দিক থেকে মসজিদটি তুলনামূলকভাবে সরল হলেও এর নির্মাণশৈলীতে তৎকালীন মুসলিম স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। খননকাজে শুধু মসজিদের কাঠামোই নয়, এর আশপাশে পাথর দিয়ে নির্মিত বেশ কয়েকটি কক্ষের সন্ধানও পাওয়া গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, তৎকালীন জনবসতিতে মসজিদটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের সময় এলাকাটি থেকে আরও বেশ কিছু প্রাচীন নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের মাটির পাত্র, পানির আধার, পাথরের তৈরি বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী, শস্য পেষার জাঁতা এবং হামানদিস্তা।

এ ছাড়া সোনা, রুপা ও তামা উত্তোলন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রাচীন নিদর্শনও পাওয়া গেছে। এসব প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান ওই সময়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরছে।

সৌদি হেরিটেজ কমিশনের মতে, মসজিদ ও এর আশপাশ থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রথম ইসলামী যুগের মানুষের ধর্মীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন সম্পর্কে নতুন তথ্যের দ্বার খুলেছে।

শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়েও পাথরের গায়ে টিকে থাকা নবীজি (সা.)-এর নামসংবলিত এই শিলালিপি প্রথম ইসলামী যুগের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি, বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি মূল্যবান সাক্ষ্য হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

/এসএন