• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম


বন্ধু থেকে চরম প্রতিদ্বন্দ্বী, নওয়াজ-ইমরানের সম্পর্ক বদলে যাওয়ার গল্প

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৬:২০ পিএম

একসময় ক্রিকেটের সূত্রে গড়ে উঠেছিল বন্ধুত্ব। একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সহযোগিতাও করেছেন। এমনকি রাজনীতিতে আসার আগেই নওয়াজ শরীফ চেয়েছিলেন ইমরান খান তাঁর দলে যোগ দিন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কই বদলে যায়। পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খান ও নওয়াজ শরীফ পরিণত হন একে অপরের চরম প্রতিদ্বন্দ্বীতে।

১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে লাহোর জিমখানা ক্রিকেট ক্লাবেই তাদের পরিচয়। সে সময় ইমরান খান ছিলেন উদীয়মান ক্রিকেটার। অন্যদিকে নওয়াজ শরীফ রাজনীতিতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ক্রিকেটের প্রতি দুজনের আগ্রহই তাদের সম্পর্ককে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ করে তোলে।

১৯৮০-এর দশকে দুজনই নিজেদের ক্ষেত্রে শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসেন। ইমরান খান পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হন, আর নওয়াজ শরীফ দায়িত্ব নেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। ক্রিকেটের সূত্র ধরে তখনও তাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

১৯৯২ বিশ্বকাপের সময় তাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ ছিল। ইমরান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তান ওই বিশ্বকাপ জেতে। একই সময়ে শওকত খানম হাসপাতাল নির্মাণের ক্ষেত্রেও নওয়াজ শরীফ সহযোগিতা করেন। হাসপাতালের জন্য জমি পেতে সহায়তার পাশাপাশি তহবিল দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি।

বিশ্বকাপ জয়ের পর নওয়াজ শরীফ প্রকাশ করেন, তিনি এর আগেই ইমরান খানকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ইমরান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ১৯৯৬ সালে তেহরিক-ই-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে নিজেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ইমরান। তখনও নওয়াজ তাঁকে নিজের দলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ইমরান সেই প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেন।

এরপরও বিভিন্ন সময়ে দুজনের রাজনৈতিক পথ কাছাকাছি এসেছে। ২০০৭ সালে লন্ডনে তারা একসঙ্গে পারভেজ মুশাররফের শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তবে সেই রাজনৈতিক ঐক্য বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

২০১১ সালের পর ইমরান খানের রাজনৈতিক উত্থান শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে থাকে। ২০১৩ সালের নির্বাচনের পর নওয়াজ ও ইমরানের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ক্ষমতার লড়াই যত বাড়তে থাকে, তাদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থানও তত কঠোর হতে থাকে।

২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে নওয়াজ শরীফ কারাগারে যান। অন্যদিকে ইমরান খান প্রথমবারের মতো সেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ওঠেন, যেখানে একসময় নওয়াজ তাঁকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই ইমরান সরকারেরও পতন ঘটে।

বর্তমানে দুই নেতার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আরও জটিল রূপ নিয়েছে। ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২০২৬ সালের অক্টোবরেও তিনি কারাগারেই আছেন। তাঁর মুক্তির দাবিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের হাজারো সমর্থক ইসলামাবাদের দিকে দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করেছেন। সরকার ও ইমরানের দলের মধ্যেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

অর্থাৎ, যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল ক্রিকেটের মাঠে, সময়ের সঙ্গে সেটিই পরিণত হয়েছে পাকিস্তানের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে। একসময় ইমরান খানকে রাজনীতিতে আনতে চাওয়া নওয়াজ শরীফ এবং ইমরান খান—আজ দুজনই পাকিস্তানের রাজনীতির দুই ভিন্ন মেরুর গুরুত্বপূর্ণ মুখ।

তাদের সম্পর্ক আবার কখনো রাজনৈতিক সমঝোতার দিকে ফিরবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে ইমরান খানের কারাবাস এবং তাঁর মুক্তির দাবিকে ঘিরে চলমান আন্দোলন দেখাচ্ছে, নওয়াজ-ইমরানের সেই পুরোনো সম্পর্কের রাজনৈতিক অধ্যায় এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।

/এসএন