গাজায় চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে নিজের তিন সন্তান ও বাড়ি হারানোর পর এবার অনাগত সন্তানকে হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটিয়েছেন আলা হেসি নামের এক ফিলিস্তিনি মা। ইসরায়েলি বিমান হামলায় তার ১০ বছরের ছেলে ওয়াসিম, ৭ বছরের মুহান্নাদ এবং ৫ বছরের মেয়ে খাওলা নিহত হয়। সেই বাড়ির ধ্বংসস্তূপের ওপরই একটি তাঁবু টানিয়ে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় দিন পার করছিলেন আলা।আলার প্রতিদিনের জীবন ছিল চরম কষ্টে ভরা। রান্নার গ্যাসের সংকটে কাঠকুটো জ্বালিয়ে খাবার ও চা তৈরি করতে হতো তাকে। তাঁবুতে ছিল না পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, গোপনীয়তা কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও তাকে ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে হতো। পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে শারীরিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন তিনি। চিকিৎসকেরা তাকে পুষ্টির কিছু সাপ্লিমেন্ট দিলেও যুদ্ধের পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করা কঠিন ছিল।যে ধ্বংসস্তূপের ওপর আলা এখন বসবাস করছেন, সেখানেই একসময় তার তিন সন্তান খেলাধুলা করত। একটি বিমান হামলা মুহূর্তেই তার সংসারকে ধ্বংস করে দেয়। সন্তানদের হারানোর শোকের পাশাপাশি নতুন সন্তানকে নিয়ে তৈরি হয় নতুন ভয়—এই শিশুটিকেও যদি হারাতে হয়!দিনের একটি বড় অংশ আলা তার মৃত সন্তানদের পুরোনো জামাকাপড় গুছিয়ে কাটাতেন। বোমার আঘাতে কিছু পোশাক পুড়ে বা ছিঁড়ে গেলেও নতুন সন্তানের জন্য সেগুলো যত্ন করে রেখে দিয়েছিলেন। বড় ছেলে ওয়াসিমের প্রিয় একটি স্কার্ফও তিনি সংরক্ষণ করেছিলেন। তবে তাঁবুতে ইঁদুরের উপদ্রব থাকায় এসব কাপড়ও নিরাপদে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল।সন্ধ্যায় পুরোনো ফোনে সন্তানদের ছবি ও ভিডিও দেখতেন আলা। স্বামীর সঙ্গে তিনি হারানো সন্তানদের স্মৃতি ভাগ করে নিতেন এবং একে অপরকে সান্ত্বনা দিতেন। সন্তানদের কবর জিয়ারত করতেন তারা। অতীতের স্মৃতি মনে পড়লেই নতুন সন্তানকে ঘিরে তার ভয় আরও তীব্র হয়ে উঠত।তবে শেষ পর্যন্ত আসে স্বস্তির খবর। প্রতিবেদনটি সংগ্রহের কিছুদিন পর আলা একটি সুস্থ ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। হারানো বড় ছেলে ওয়াসিমের স্মৃতিকে ধরে রাখতে নবজাতকের নামও রাখেন ‘ওয়াসিম’।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
/বিএসএস