ইরানের ড্রোন হামলার পরও গত পাঁচ মাস ধরে আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ খোলা রেখেছিল সৌদি আরব। তবে ইরান, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকভিত্তিক ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের ধারাবাহিক হামলার মুখে শেষ পর্যন্ত নীরবতা ভেঙে সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে রিয়াদ।মঙ্গলবার ভোরে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ইরাকের পূর্বাঞ্চলে আকাশপথে হামলা চালিয়েছে সৌদি যুদ্ধবিমান।এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর উপকূলে সৌদির তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে তারা নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে ইয়াঙ্কু বন্দর হয়ে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জ্বালানি রপ্তানির পরিকল্পনা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।এর আগে হুথিদের বিরুদ্ধে টানা সাত বছর যুদ্ধ করেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি সৌদি আরব। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি।বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার মতোই হুথিরা উসকানিমূলক কৌশল গ্রহণ করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। যদিও বর্তমানে সৌদি বিমান বাহিনী আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও আধুনিক, তবুও প্রায় তিন লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন জোগাতে হুথিদের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।অন্যদিকে সোমবার ও মঙ্গলবার ইরাকভিত্তিক ইরানপন্থি মিলিশিয়ারা রিয়াদসহ সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন হামলা চালায়। এর জবাবে ধৈর্য হারিয়ে ইরাকের পূর্বাঞ্চলে পাল্টা বিমান হামলা চালায় সৌদি আরব। ইরাকি পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস জানিয়েছে, ওই হামলায় কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরিচালিত ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার জোরালো জবাব হিসেবেই এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ২০১৯ সালে আবকাইক তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলার অভিজ্ঞতাও সৌদি আরব এখনো ভুলে যায়নি।চলতি বছরের প্রথমার্ধে ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে সৌদি আরব। বিপুল সামরিক ব্যয় সত্ত্বেও দেশটি এখনও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দুর্বল হয়ে পড়লে ইরানের প্রভাব আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে রিয়াদের। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।সব মিলিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কতটা ছাড় দেওয়া সম্ভব, সেই হিসাব কষেই এবার পাল্টা সামরিক অভিযানের কঠোর পথ বেছে নিয়েছে সৌদি আরব।
সূত্র: সিএনএন