যুক্তরাজ্যের রেক্সহ্যামের ৩৪ বছর বয়সী জশ স্মিথ সম্প্রতি দুরারোগ্য ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। তার বিশ্বাস, স্ত্রী কেলি যদি সেদিন জোর করে চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে যেতেন, তাহলে হয়তো তিনি আজ বেঁচে থাকতেন না।
গত জানুয়ারিতে জশের তীব্র মাথাব্যথা ও স্মৃতিভ্রমের মতো উপসর্গ দেখা দিলেও তিনি সেগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি বলে মনে করেছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাসে টানা ১০ দিন মাথাব্যথায় ভুগলেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। কুকুর নিয়ে হাঁটার সময় কিংবা বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রায়ই তিনি আনমনা হয়ে যেতেন। পরে চিকিৎসকেরা জানান, এগুলো আসলে ছোটখাটো খিঁচুনির লক্ষণ ছিল।
জশ জানান, গত ১২ বছর ধরে তিনি চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এড়িয়ে চলছিলেন। সমাজে পুরুষদের সব কষ্ট চেপে সহ্য করার যে মানসিকতা রয়েছে, তার প্রভাবেই তিনি কেবল ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
তবে ৯ ফেব্রুয়ারি স্ত্রী কেলির জোরাজুরিতে তিনি চিকিৎসকের কাছে যেতে বাধ্য হন। প্রাথমিক চিকিৎসক তেমন কোনো সমস্যা খুঁজে না পেয়ে তাকে চোখের চিকিৎসকের কাছে পাঠান। কিন্তু কেলির মনে হচ্ছিল, সমস্যাটি আরও গুরুতর।
অবশেষে ১৩ ফেব্রুয়ারি অসহনীয় ব্যথা নিয়ে জশ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। তার অনুভূতি ছিল, যেন কেউ চোখের পেছন থেকে চোখ দুটি ঠেলে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। পরদিন সিটি স্ক্যানে তার মস্তিষ্কে ৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটারের একটি টিউমার ধরা পড়ে।
এরপর লিভারপুলের দ্য ওয়ালটন সেন্টারে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা গ্লিওব্লাস্টোমা নামের ওই টিউমারের প্রায় ৯৫ শতাংশ অপসারণ করতে সক্ষম হন।
জশ জানান, অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি স্ত্রীকে কেএফসি খাওয়ানোর আবদার করেন, যদিও আগে তিনি এই খাবার তেমন পছন্দ করতেন না। বর্তমানে ডেনবিগশায়ারের একটি হাসপাতালে তার রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি চলছে। তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার রোগটি আর নিরাময়যোগ্য নয়।
ব্রেন টিউমার রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর প্রায় ৩ হাজার ২০০ জন গ্লিওব্লাস্টোমায় আক্রান্ত হন। এ রোগে আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ১২ মাসের বেশি বেঁচে থাকেন এবং মাত্র ৪ শতাংশ পাঁচ বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারেন। গত দুই দশকে এ রোগের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
কারখানায় ভারী যন্ত্রপাতি পরিচালনার কাজ করতেন জশ। এখন তার উপলব্ধি, রোগটি দীর্ঘদিন অজানা থাকায় কর্মক্ষেত্রে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
চলতি বছরের শুরুতে জশ ও কেলি সন্তান নেওয়া এবং একটি ক্যাম্পারভ্যানে করে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু রোগ নির্ণয়ের পর তাদের জীবনের সেই পরিকল্পনা পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন তারা প্রতিটি দিনকে অর্থবহ করে কাটানোর চেষ্টা করছেন।
সম্প্রতি জশ স্নোডন পাহাড়ে আরোহণ করেছেন, ৫ কিলোমিটারের পার্করানে অংশ নিয়েছেন, প্যাডেলবোর্ডিং করেছেন এবং চেস্টার চিড়িয়াখানায় এক দিনের জন্য জুকিপারের দায়িত্বও পালন করেছেন।
বর্তমানে তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য বড়দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকা, যাতে তিনি স্ত্রীকে ক্রিসমাস ট্রি সাজাতে সাহায্য করতে পারেন।
নিজেদের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও জশ ও কেলি ওয়েলশ সরকারের কাছে ব্রেন টিউমার গবেষণায় আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। জশের ভাষায়, এই রোগ বয়স বা পরিচয় দেখে আক্রমণ করে না; এমনকি শিশুরাও এতে আক্রান্ত হতে পারে। তাই অন্তত একজন মানুষের জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা থাকলেও এ বিষয়ে গবেষণা জোরদার করা প্রয়োজন।
এদিকে ওয়েলশ সরকার জানিয়েছে, ক্যানসার গবেষণায় নতুন উদ্ভাবন এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে রোগীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে তারা কাজ করছে। এ বিষয়ে একটি রূপরেখা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ করা হবে।
/এসএন