• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১২ এএম


ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘নউল’, সরিয়ে নেওয়া হলো ২০ হাজারের বেশি মানুষ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৬ জুলাই ২০২৬ ৭:৫৭ এএম

শক্তিশালী টাইফুন ‘নউল’ চীনের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসায় দক্ষিণাঞ্চল থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য দুর্যোগের কারণে বিভিন্ন এলাকায় রেল চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রোববার (২৬ জুলাই) সকাল পর্যন্ত যেকোনো সময় হংকং থেকে গুয়াংডং প্রদেশ পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলে টাইফুনটি আঘাত হানতে পারে।

পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় শনিবারও আবহাওয়া বিভাগ চার স্তরের সতর্কতা ব্যবস্থার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধাপ ‘কমলা সতর্কতা’ বহাল রেখেছে। এর আগে সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছিল, গুয়াংডং এবং পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার রাত পর্যন্ত শুধুমাত্র গুয়াংডং প্রদেশ থেকেই ২০ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সম্ভাব্য ঝড়ের ঝুঁকি এড়াতে সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌযানগুলোকে বন্দরে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো নিরাপদে ফিরেছে বলেও জানিয়েছে সিসিটিভি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শনিবার সকালে গুয়াংডং প্রদেশে কয়েকটি ট্রেনের চলাচল বন্ধ রাখা হবে। এছাড়া রোববার পুরো প্রদেশজুড়ে সব ট্রেন পরিষেবা স্থগিত থাকবে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গুয়াংডং প্রদেশের চাওঝৌ শহরের স্কুলগুলোতে সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম ও অন্যান্য কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে চলতি মাসে চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গুয়াংশি অঞ্চলে টাইফুন মায়সাক-এর প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে মায়সাকের প্রভাবে মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও প্রবল বাতাসে আরও ১১ জন নিহত এবং ৩৩১ জন আহত হয়েছেন।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার অব্যাহত থাকায় পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো আরও ঘন ঘন এবং আরও তীব্র আকারে দেখা দিতে পারে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলেও চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও বিশ্বের শীর্ষ শক্তিগুলোর একটি। বেইজিং ২০৬০ সালের মধ্যে নিজেদের অর্থনীতিকে কার্বন-নিরপেক্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

/এসএন