সৌদি আরবের জিজান শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে এ দাবি জানায় গোষ্ঠীটি।আনসারুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের বরাতে আয়ারল্যান্ডভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরটিই জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের পর জিজান এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
তবে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।এর আগে লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলে হুথিদের অবরোধ ঘোষণা এবং বিভিন্ন জাহাজে হামলার ঘটনার পর হুথিদের সামরিক স্থাপনায় অভিযান চালায় সৌদি আরব। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলার জবাব হিসেবেই হুথিরা এবার জিজান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে।
সৌদি আরবের সামরিক পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ বলে অভিহিত করে হুথিরা আগেই পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। সেই ঘোষণার পরই জিজানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি সামনে আসে।হামলার দাবির পর সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জিজান ও ইয়ানবু এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সাময়িকভাবে ‘সম্ভাব্য বিপদ’ সতর্কতা জারি করে। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে জানানো হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
হুথিদের এ দাবি এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবস্থান এবং লোহিত সাগরে হুথিদের তৎপরতা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।এদিকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তবে তার দাবি, তেহরান বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্ব সহকারে অংশ নিচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, জিজানে হুথিদের কথিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং এর সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
/বিএসএস