পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক অবকাঠামো, রাডার ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। তেহরানভিত্তিক বিশ্লেষক আশরাফুর রহমানের এই লেখায় বলা হয়েছে, ‘নাসর-২’ ও ‘সায়কা’ নামে অভিযানের মাধ্যমে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং ইরানের সেনাবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত অ্যামাজনের ‘এমই-সাউথ-১’ ডেটা সেন্টার, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ক্লাউড অবকাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে লেখক উল্লেখ করেছেন, তা হামলায় ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে মার্কিন সেন্টকমের ডিজিটাল সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও লেখায় দাবি করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, কুয়েত ও জর্ডানে মার্কিন বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটির রাডার, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন হ্যাঙ্গার এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে একটি ইরানি এফ-৫ যুদ্ধবিমান মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে হামলা চালিয়ে নিরাপদে ফিরে এসেছে বলেও লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম হওয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা প্রতিহত করতে হিমশিম খাচ্ছে। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে লেখক মত দিয়েছেন।
লেখায় আরও বলা হয়েছে, আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তে ইউরোপের ঘাঁটি ব্যবহারের দিকেও ঝুঁকছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত সামরিক চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতা অর্জনের দিকেও ইরান এগোচ্ছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবশেষে লেখক মন্তব্য করেছেন, চলমান সংঘাতের ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক প্রভাব ও আধিপত্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এবং এই যুদ্ধ ভবিষ্যতে অঞ্চলটির ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
সূত্র: বাংলানিউজ (আশরাফুর রহমান, তেহরান থেকে)
/এএসএফ