• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৬ এএম


তুরস্কে টানা দুই দিন স্কুলে বন্দুক হামলা, নিহত ৯

আপডেট টাইম: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১:০২ পিএম

তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ এক স্কুল ট্র্যাজেডিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো দেশজুড়ে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে কাহরামানমারাস প্রদেশের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯ জন—যাদের মধ্যে ৮ জনই শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৩ জন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তফা সাংবাদিকদের জানান, কাহরামানমারাস প্রদেশে এই হামলায় আট শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এটি আমাদেরই এক ছাত্রের ব্যক্তিগত হামলা, এর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো সম্পর্ক নেই।”

এর আগে প্রদেশটির গভর্নর জানিয়েছিলেন, হামলার পর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে অভিযুক্ত ছাত্র নিজেও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

গভর্নর বলেন, “অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্র ব্যাগে করে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাতটি ম্যাগাজিন নিয়ে স্কুলে এসেছিল। আমরা ধারণা করছি, অস্ত্রগুলো তার বাবার, যিনি একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। সে পঞ্চম শ্রেণির দুটি ক্লাসরুমে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়।”

তুরস্কে স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এই সপ্তাহের দুটি ঘটনার পর সরকার কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিস্তারিত কিছু না বলে জানান, প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

তুরস্কের গণমাধ্যম এনটিভি জানিয়েছে, অভিযুক্ত ছাত্রের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

তুরস্কে অস্ত্র আইন বেশ কড়া; কেবল ২১ বছরের বেশি বয়সী লাইসেন্সধারীরাই অস্ত্র রাখতে পারেন। তবে নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে অস্ত্র রাখার বিষয়ে শিথিলতা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাই না করা কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলির শব্দ শুনে প্রাণভয়ে স্কুলের দ্বিতীয় তলার জানালা দিয়ে শিক্ষার্থীরা লাফিয়ে পড়ছে।

সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীকে বারান্দা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দুই ছাত্রকে গুলি করতে দেখা যায়।

এর আগে গত মঙ্গলবার তুরস্কের সানলিউরফা প্রদেশে এক সাবেক ছাত্রের গুলিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়। ওই হামলার পর হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করেছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।