• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৭ এএম


সংসদে ঢুকতেই ‘লজ্জা, লজ্জা’ ধ্বনি: চরম বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন নেতানিয়াহু

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ জুলাই ২০২৬ ১১:০৭ এএম

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে। বিতর্কিত একটি বিলের চূড়ান্ত ভোটের আগে সংসদ কক্ষে প্রবেশ করতেই বিরোধী আইনপ্রণেতারা তাকে লক্ষ্য করে “শেম! শেম!” (লজ্জা! লজ্জা!) এবং “লিভ!” (পদত্যাগ করুন!) বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

এতে মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো সংসদ অধিবেশন।দ্যা টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৩ জুলাই) এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জোট সরকারের সমর্থিত একটি বিল, যেখানে আল্ট্রা-অর্থোডক্স বা হারেদি সম্প্রদায়ের যেসব ব্যক্তি বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ এড়িয়ে গেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কয়েক মাসের জন্য গ্রেফতার ও বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিধান রাখা হয়েছে।

সরকারের দাবি, এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা। তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই বিল আইনের শাসন এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার নীতিকে দুর্বল করবে। তাদের ভাষ্য, আসন্ন নির্বাচনে হারেদি ভোটব্যাংকের সমর্থন নিশ্চিত করতেই নেতানিয়াহুর সরকার দ্রুততার সঙ্গে বিলটি পাস করিয়েছে।শুধু বিরোধী দলই নয়, বিলটির সমালোচনা করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং দেশটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারাও। তাদের মতে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে কার্যত সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দিলে সেনাবাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে এবং জনবল সংকট আরও বাড়বে।

এদিকে চূড়ান্ত ভোটাভুটির আগেই সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ফলে তিনি ভোটে অংশ নেননি। তবে জোটের কয়েকজন সদস্য বিলের বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত ৫৮–৫৪ ভোটে এটি পাস হয়।নেসেটে তুমুল বিতর্কের মধ্য দিয়ে বিলটি পাস হওয়ার পর ইসরায়েলে হারেদি সম্প্রদায়ের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। এখন নজর থাকবে, নির্বাচনের আগে নেওয়া এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে, নাকি তার জন্য নতুন সংকট তৈরি করবে।

সূত্র: দ্যা টাইমস অব ইসরায়েল

/বিএসএস