• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম


বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভ্রমণ ভিসা চালুর খবরে উচ্ছ্বসিত কলকাতার ব্যবসায়ীরা, করলেন মিষ্টিমুখ!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৮ জুন ২০২৬ ৬:৫০ এএম

বাংলাদেশিদের জন্য আবার চালু ভারতের ভ্রমণ ভিসা, উচ্ছ্বসিত কলকাতার ব্যবসায়ীরা

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভ্রমণ ভিসা চালু হচ্ছে। আগামী ২৮ জুন থেকে ভ্রমণ ভিসা কার্যকর হবে এবং রোববার থেকেই বাংলাদেশি নাগরিকরা ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ভিসা চালুর খবরে কলকাতার ব্যবসায়ী মহলে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে ব্যবসায় আবারও প্রাণ ফিরবে—এমন আশায় রোববার (২৭ জুন) বৈঠকে বসেন কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা। বৈঠক শেষে তারা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান।

বৈঠকে মারকুইস স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশি পর্যটকদের আরও উন্নত সেবা প্রদান, নিরাপত্তা জোরদার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হয়।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, দুই বছর আগে বাংলাদেশিরা যে পরিচিত কলকাতা দেখেছিলেন, এবারও তারা যেন একই পরিবেশ পান। কোনো ধরনের ভয় বা অনিশ্চয়তা ছাড়াই পর্যটকরা কলকাতা ভ্রমণ করতে পারেন, সেটিই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশিদের জন্য ভ্রমণ ভিসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কলকাতার নিউ মার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও লিন্ডসে স্ট্রিটসহ পর্যটকনির্ভর এলাকাগুলোর ব্যবসায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘ সময় বিক্রি কমে যাওয়ায় অনেককে ঋণ নিতে হয়েছে, কেউ ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছেন, আবার অনেকে পেশাও পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।

ভিসা চালুর ঘোষণার পর নিউ মার্কেট এলাকায় আবারও আশার সঞ্চার হয়েছে। হোটেল ব্যবসায়ী, পোশাক বিক্রেতা, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, মোবাইল সিম বিক্রেতা থেকে শুরু করে হাতে টানা রিকশাচালকরাও আশা করছেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমনে আবারও জমে উঠবে ব্যবসা।

সোহাগ পরিবহনের কর্ণধার এবং মারকুইস স্ট্রিট-ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোতোষ সাহা বলেন, গত দুই বছর তারা অত্যন্ত কঠিন সময় পার করেছেন। এখন বাংলাদেশি পর্যটকদের সঙ্গে আগের সম্পর্ক ফিরিয়ে এনে নিউ মার্কেটকে আবারও আগের অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

গ্রিন লাইনের কর্ণধার সঞ্জয় মজুমদার বলেন, শুধুমাত্র মেডিকেল ভিসার ওপর নির্ভর করে পরিবহন ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন মারকুইস স্ট্রিট প্রায় স্থবির ছিল। এখন আবারও সুদিন ফেরার আশা করছেন তিনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মুস্তাজ জানান, বাংলাদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকার প্রায় ৩৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা পরীক্ষা করা হয়েছে। অতীতে পর্যটকদের হারিয়ে যাওয়া ব্যাগ বা পাসপোর্ট উদ্ধারেও এসব ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কটন গ্যালারির কর্ণধার কামরুদ্দিন মালিক বলেন, গত দুই বছরে নিউ মার্কেটের ব্যবসা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গিয়েছিল। ভিসা পরিষেবা স্বাভাবিক হলে ব্যবসা আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি আশা করছেন।

নিউ মার্কেটের গ্লোব ফার্মেসির কর্মী কুসুম বলেন, বাংলাদেশি ক্রেতাদের ওপর তাদের ব্যবসার বড় অংশ নির্ভরশীল। বাংলাদেশি পর্যটকরা মূলত ওষুধ, প্রসাধনী ও ড্রাই ফ্রুটস কিনতে কলকাতায় আসেন। তাই ভিসা চালুর খবর তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।

অন্যদিকে, নিউ মার্কেট এলাকার খালেক রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশি পর্যটকদের খাদ্যাভ্যাস ও পছন্দকে আগের মতোই গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পর্যটকদের অনুপস্থিতিতে মারকুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ব্যবসা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। নিউ মার্কেটে ব্যবসা কমেছিল প্রায় ৬০ শতাংশ এবং এর প্রভাব বড়বাজারেও পড়েছিল। তাই ভ্রমণ ভিসা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তে শুধু ব্যবসায়ী নয়, কলকাতার পর্যটন খাত ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

সূত্র: ভারতীয় গণমাধ্যম

/এএসএফ