• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম


হামের (মিজেলস) টিকা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে যে প্রশ্নগুলো বেশি উঠছে, তার সহজ উত্তর নিচে দেওয়া হলো

হামের দুটি টিকা নেওয়ার পরও কি আবার দেওয়া যাবে? বড় শিশুরা কি পাবে?

The Pulse BD news desk
আপডেট টাইম: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৩:০০ পিএম

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় শিশুদের টিকা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকেরা। কেউ জানতে চাইছেন, আগে টিকা দেওয়া থাকলে আবার দেওয়া যাবে কি না। আবার কেউ টিকা কার্ড হারিয়ে ফেলায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন—সন্তান টিকা পেয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন।

রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে কথা বলে জানা গেছে, অভিভাবকদের মধ্যে এ ধরনের প্রশ্নই এখন বেশি ঘুরছে। বিশেষ করে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য চলমান টিকাদান কর্মসূচিকে ঘিরে এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বর্তমানে দেশে হামের সংক্রমণ বেড়েছে এবং আক্রান্তদের মধ্যে ছোট শিশুদের সংখ্যাই বেশি। অনেক ক্ষেত্রে এক বছরের নিচের শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে, যা অভিভাবকদের চিন্তা বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে, যা ধাপে ধাপে সারা দেশে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের টিকা আগে নেওয়া থাকলেও আবার দেওয়া গেলে কোনো সমস্যা নেই। এটি অতিরিক্ত সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, এই অতিরিক্ত ডোজ মূলত বুস্টার হিসেবে কার্যকর হয় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

টিকা কার্ড হারিয়ে গেলে উদ্বিগ্ন হওয়ারও তেমন প্রয়োজন নেই। কারণ, টিকা দেওয়া হয়েছে কি না তা নিশ্চিত না হলেও পুনরায় টিকা নেওয়া নিরাপদ। প্রয়োজনে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে জানা সম্ভব হলেও সেটি জরুরি নয়।

চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি–কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। এর লক্ষণ হিসেবে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং কয়েক দিনের মধ্যে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা যায়। জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার ঝুঁকিও থাকে, যা ছোট শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

তাই কোনো শিশুর জ্বর বা শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে অন্তত পাঁচ দিন অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, দেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি বড় কারণ। দীর্ঘ সময় গণটিকা কার্যক্রম না হওয়ায় অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে গেছে। ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেছে।

তবে চলমান টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা কমতে কিছুটা সময় লাগলেও, সঠিক সময়ে টিকা দেওয়া গেলে মৃত্যুঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হাম বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার তুলনামূলক কম বলেও জানা গেছে। অনেক অভিভাবকই জানিয়েছেন, স্কুল থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা বা বার্তা পাননি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডেঙ্গুর মতো হাম নিয়েও ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ হচ্ছে টিকা। তাই শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ডোজ নেওয়াই এখন সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

হামের (মিজেলস) টিকা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে যে প্রশ্নগুলো বেশি উঠছে, তার সহজ উত্তর নিচে দেওয়া হলো—

👉 আবার টিকা দেওয়া যাবে কি?
হ্যাঁ, অবশ্যই দেওয়া যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে এমআর-১ ও এমআর-২—এই দুই ডোজ নেওয়া থাকলেও আবার টিকা দিলে কোনো ক্ষতি নেই। বরং এটি বুস্টার ডোজ হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আরও বাড়ায়।

👉 টিকা বেশি হয়ে গেলে সমস্যা হবে?
না, এতে কোনো ক্ষতির ঝুঁকি নেই। অতিরিক্ত ডোজ নেওয়া নিরাপদ।

👉 বড় শিশুরা কি টিকা পাবে?

  • সরকারিভাবে বর্তমানে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
  • তবে ৫ বছরের বেশি বয়সী শিশুরাও চাইলে টিকা নিতে পারে, কিন্তু সে ক্ষেত্রে সাধারণত বেসরকারি হাসপাতালে নিতে হতে পারে।

👉 টিকা কার্ড হারিয়ে গেলে কী করবেন?
টিকা দেওয়া হয়েছিল কি না নিশ্চিত না হলেও আবার টিকা নেওয়া যাবে। এতে কোনো সমস্যা নেই, তাই দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই।