• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম


শিশুদের হাম প্রতিকারে যা জানা জরুরি

The Pulse BD online news desk
আপডেট টাইম: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৩:০২ পিএম

সম্প্রতি দেশে শিশুদের মধ্যে হাম (মিজেলস) সংক্রমণ বেড়েছে, যা অনেকেই সাধারণ জ্বর বা ত্বকের রোগ ভেবে অবহেলা করেন। তবে সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই অভিভাবকদের জন্য হাম সম্পর্কে প্রয়োজনীয় কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর তুলে ধরা হলো—

হামের প্রাথমিক লক্ষণ
হাম সাধারণত উচ্চ জ্বর দিয়ে শুরু হয়। এর সঙ্গে কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। জ্বরের কয়েক দিন পর কান বা গলার নিচ থেকে লালচে ফুসকুড়ি শুরু হয়ে তা দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

হাম কতটা বিপজ্জনক?
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। ফলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, মুখে ঘা বা মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে চোখের সমস্যাও তৈরি হতে পারে, যা কখনো অন্ধত্ব পর্যন্ত গড়াতে পারে।

জ্বরের সঙ্গে র্যাশ মানেই কি হাম?
সব ক্ষেত্রে নয়। রুবেলা, ডেঙ্গু বা অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগেও র্যাশ হতে পারে। তবে উচ্চ জ্বর, চোখ লাল হওয়া এবং গলার নিচ থেকে র্যাশ ছড়ানো—এগুলো হামের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

রোগ নিশ্চিত করার উপায়
হাম শনাক্ত করতে IgM অ্যান্টিবডি পরীক্ষা ও আরটি-পিসিআর টেস্ট করা হয়।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?
যেসব শিশু টিকা পায়নি, অপুষ্টিতে ভুগছে বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম—তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। এছাড়া গর্ভবতী নারী ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় থাকা শিশুরাও ঝুঁকিপূর্ণ।

আক্রান্ত হলে করণীয়
হাম হলে শিশুকে অন্তত পাঁচ দিন আলাদা রাখতে হবে। পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কখন হাসপাতালে নিতে হবে?
শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, খিঁচুনি, অতিরিক্ত দুর্বলতা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা বা মুখে গুরুতর ঘা দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে।

চিকিৎসা ও ভিটামিন ‘এ’-এর গুরুত্ব
হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। চিকিৎসা মূলত উপসর্গ অনুযায়ী করা হয়। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল, চুলকানির জন্য ওষুধ এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।

টিকা নেওয়ার পরও কেন হাম হয়?
সব শিশু টিকার পূর্ণ ডোজ পায় না। আবার কিছু ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার পরও পর্যাপ্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি না হলে সংক্রমণ হতে পারে।

টিকাদান বিষয়ে করণীয়
৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য হাম-রুবেলা (MR) টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত ক্যাম্পেইনে সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গর্ভবতী ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরামর্শ
গর্ভাবস্থায় এই টিকা নেওয়া উচিত নয়। তবে যেসব প্রাপ্তবয়স্ক আগে হাম হয়নি বা টিকা নেননি, তারা চিকিৎসকের পরামর্শে এমএমআর টিকা নিতে পারেন।

টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
হামের টিকা সাধারণত নিরাপদ। হালকা জ্বর, ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা বা সামান্য র্যাশ হতে পারে, যা কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যায়। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই বিরল।