তালহা আনজুম: পাকিস্তানের হিপ-হপ সম্রাজ্যের নতুন রূপকার
পাকিস্তানের সংগীত জগতে এখন এক নতুন রাজত্ব চলছে। যেখানে আতিফ আসলাম বা রাহাত ফতেহ আলি খানের মতো কিংবদন্তিদের ভিড়ে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন এক তরুণ তুর্কি। তিনি আর কেউ নন, বর্তমান সময়ের হিপ-হপ সেনসেশন তালহা আনজুম। সম্প্রতি প্রকাশিত স্পটিফাইয়ের পাঁচ বছরের ‘রিওয়াইন্ড’ তালিকায় টানা পঞ্চমবারের মতো শীর্ষস্থান দখল করে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
তালহা আনজুম স্পটিফাই রেকর্ড গড়ার পথে পেছনে ফেলেছেন আতিফ আসলাম, নুসরাত ফতেহ আলি খান এবং রাহাত ফতেহ আলি খানের মতো মিউজিক আইকনদের। স্পটিফাই পাকিস্তানের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, তালহা আনজুমের পরেই আছেন আতিফ আসলাম এবং উমাইর। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হিপ-হপ এবং র্যাপ সংগীতের প্রতি কতটা ঝুঁকেছে।
তালহা আনজুমের এই যাত্রার শুরুটা হয়েছিল ২০১৩ সালে তার বন্ধু তালহা ইউনুসের সাথে ‘ইয়াং স্টানার্স’ ব্যান্ড গঠনের মাধ্যমে। করাচির উচ্চবিত্ত সমাজের জীবনধারা নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক গান ‘বার্গার-এ-করাচি’ দিয়ে তারা প্রথম আলোচনায় আসেন। এরপর ‘গুমান’, ‘আফসানায়’, এবং ‘বাজ’-এর মতো একের পর এক হিট গান তাদের নিয়ে যায় অনন্য উচ্চতায়। একক ক্যারিয়ারেও আনজুম সফল; তার ‘ওপেন লেটার’ এবং ‘মাই টেরিবল মাইন্ড’ অ্যালবাম দুটি তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিয়েছে।
তালহা আনজুমের জনপ্রিয়তার মূল রহস্য হলো তার গানের গভীর কথনশৈলী। পরিচয়, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং করাচির কঠিন সামাজিক বাস্তবতা তার গানে তীক্ষ্ণভাবে ফুটে ওঠে। তার মতে, হিপ-হপ কেবল একটি সংগীতের ধারা নয়, এটি তার জীবন বদলে দিয়েছে। চারপাশে থাকা প্রযোজক জোখায়, উমায়ের তাহির এবং বন্ধু তালহা ইউনুসকে তিনি তার বড় অনুপ্রেরণা বলে মনে করেন।
ইনস্টাগ্রামে ২৮ লাখের বেশি অনুসারী থাকা সত্ত্বেও তালহা আনজুম খুব একটা প্রচার পছন্দ করেন না। অভিনয়ের ব্যাপারে তার স্পষ্ট কথা—সংগীতই তার আসল জায়গা। তবে খুব ভালো সুযোগ পেলে ভবিষ্যতের কথা এখনই নাকচ করছেন না তিনি। সম্প্রতি ‘২এএম ইন লন্ডন’ শিরোনামের একটি সিঙ্গেল প্রকাশ করে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি বর্তমানের সেরা।