জকসু সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তুলে ধরার পরিকল্পনা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকায় তার সামনে এসব দাবি উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে জকসুর প্রতিনিধিরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশের সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জকসুর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন জকসুর প্রতিনিধিরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ কয়েকজন নেতা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তাদের বাধা দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তাকেও ধাক্কা দেওয়া হয় বলে ভিডিওতে দেখা যায়।
ভিডিওতে আরও শোনা যায়, মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘এই দরজা বন্ধ কর। দ্রুত গেট আটকা।’ এরপর অডিটোরিয়ামের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ছেঁড়া প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অডিটোরিয়ামের সামনে জকসু নেতাদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।
জকসুর নেতাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করতেই তারা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়, প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘প্রক্টর ছাত্রদল হয়ে গেছে নাকি ছাত্রদল প্রক্টরের ভূমিকায়? আমন্ত্রণ জানিয়েও অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা। ধাক্কাধাক্কি করা শুধু ছাত্রদলের দ্বারাই সম্ভব।’
এ বিষয়ে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা। এছাড়া জকসুর প্রতিনিধিদের ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ওরা আমাদের ভাই-বোনদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে। এই ছেঁড়া পোস্টারেই দাবি আদায় হবে ইনশাআল্লাহ।’
/এসএন