বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার মোট ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন। সারা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের অধীনে ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবেন ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী রয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন। দিনাজপুর বোর্ডের ২১২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবেন ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন এবং যশোর বোর্ডের ২৪০টি কেন্দ্রে অংশ নেবেন ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন। সিলেট বোর্ডের ৯৬টি কেন্দ্রে ৭১ হাজার ৭১১ জন, কুমিল্লা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডের ১১১টি কেন্দ্রে ৭৩ হাজার ৩৭ জন এবং বরিশাল বোর্ডের ১৪২টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী রয়েছেন ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দেশের ৪৬১টি কেন্দ্রে মোট ৯২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী আলিম পরীক্ষায় অংশ নেবেন। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন।
পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্তভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষা বোর্ডগুলো কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন। তবে কোনো পরীক্ষার কক্ষে দুজনের কম পরিদর্শক রাখা যাবে না। বসার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। ৫ ফুট বাই ৬ ফুট দীর্ঘ বেঞ্চে সর্বোচ্চ দুজন এবং ৪ ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন।
পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে সবাইকে নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কেউ দেরিতে এলে তার তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে প্রয়োজনীয় অনুমতি সাপেক্ষে কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া যাবে।
প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তায়ও নেওয়া হয়েছে একাধিক ব্যবস্থা। পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করতে হবে। পরীক্ষার দিন ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের প্রহরায় প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছানো হবে এবং মোবাইল ফোনে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে প্রশ্ন ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা চালু রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ক্যামেরার আইডি, পাসওয়ার্ড, ব্র্যান্ড, ডিভাইসের সিরিয়াল নম্বর এবং ডিভিআর বা এনভিআর সংযোগসংক্রান্ত তথ্য শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে হবে।
সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো কেন্দ্রে সিসিটিভি অকার্যকর পাওয়া গেলে কিংবা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শৈথিল্য ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরাও কাঁটাযুক্ত হাতঘড়ি ছাড়া অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখতে পারবেন না।
এ ছাড়া পরীক্ষা চলাকালে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তির কেন্দ্রে উপস্থিতি নিষিদ্ধ রাখা, টয়লেট তল্লাশি, প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহনে পুলিশের সম্পৃক্ততা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র আলাদাভাবে সংরক্ষণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে সার্বিক সমন্বয় ও জরুরি যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বর ০২-২২৩৩৬৯৮১৫।
এ ছাড়া যোগাযোগের জন্য ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩ এবং ০১৭৫৬১০৩১৫২ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ই-মেইল ঠিকানা: controller@dhakaeducationboard.gov.bd
/এসএন