• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম


বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্পের প্রভাব নিম্নমুখী, একাধিক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩:২২ পিএম

বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনরায় জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে কঠোর বক্তব্য এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরও তাঁর পররাষ্ট্রনীতিতে বড় কোনো অগ্রগতি কতটা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে সাম্প্রতিক এসব কূটনৈতিক তৎপরতায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানকে চুক্তিতে রাজি না হলে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকি দেন। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলা নিয়ে তাঁর কঠোর নীতির পক্ষে অবস্থান নেন এবং আন্তর্জাতিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

তবে ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থানের বিপরীতে বিভিন্ন দেশের নেতাদের অবস্থানও সামনে এসেছে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় ও এশীয় মিত্রদের অনেকেই ওয়াশিংটনের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হয়নি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও জাতিসংঘে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, হুমকির ভাষা ইরানের অবস্থান পরিবর্তন করবে না। একই সঙ্গে তিনি আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সুযোগের কথাও বলেন।

ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ইরান যুদ্ধ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত প্রায় সাত মাস ধরে চলছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

এরপর বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্যেও আলোচনার উল্লেখযোগ্য ফল হিসেবে দুই দেশের বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইরান ও বৃহত্তর বাণিজ্যিক বিরোধসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে শি জিনপিং তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন। তাইওয়ান ইস্যু দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়।

ট্রাম্পের আগের শুল্কনির্ভর কঠোর নীতির তুলনায় চীনের সঙ্গে এবারের আলোচনায় তুলনামূলক সমঝোতামূলক অবস্থান দেখা গেছে। এর পেছনে চীনের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পারস্পরিক নির্ভরতার বিষয়টি ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক উদ্যোগে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা যায়নি। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধানের দিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রিনল্যান্ড নিয়েও ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে বাস্তব ফলাফলের পার্থক্য দেখা গেছে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হলেও তা ট্রাম্পের আগের মালিকানা নেওয়ার দাবির তুলনায় অনেক সীমিত অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সক্ষমতা ও পররাষ্ট্রনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইয়ান ব্রেমারের মতে, এক বছর আগে খুব কম দেশই ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে অস্বীকার করার সাহস দেখাত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এখন কানাডা, ইউরোপ, চীন, ইরান ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ওয়াশিংটনের অবস্থানের বিরোধিতা বা নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি প্রস্তুত।

তবে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি থমকে যাওয়ার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প লোক দেখানো অবস্থানের চেয়ে ফলাফলের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর দাবি, বিশ্বনেতাদের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং ব্যক্তিগত আলোচনায় তাঁদের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির সামনে থাকা বাস্তব সীমাবদ্ধতার প্রেক্ষাপটে দেখা হয়েছে। ইরান যুদ্ধ, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক, ইউক্রেন সংকট এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব প্রয়োগের পাশাপাশি মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর নিজস্ব স্বার্থ ও অবস্থানও কূটনৈতিক ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

/এএসএফ