• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৫ পিএম


তারেক রহমানই আমার পিএইচডির বিষয় ঠিক করে দিয়েছিলেন: শিক্ষামন্ত্রী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯:১০ পিএম

‘আমাদের মেধা কোনো অবস্থাতেই বিশ্বের অন্য কোনো নাগরিকের চেয়ে কম নয়। আল্লাহ আমাদের কাউকে মেধা দিয়ে ঠকাননি। উন্নত বিশ্বের মানুষের যে মেধা রয়েছে, আমাদেরও তা আছে। চীন যেমন নিজেদের চেষ্টায় উন্নত হয়েছে, আমরাও আমাদের দেশকে সেভাবেই উন্নত করব।’

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘এমজিআই-এমএএ স্কলারশিপ ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে নিজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় থাকাকালে তিনি গবেষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করলে তাঁর গবেষণার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান তাঁর উচ্চশিক্ষার বিষয় দেখে মন্তব্য করেছিলেন, একসময় সুযোগ পেলে তাঁকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কাজ করানোর কথা ভেবেছিলেন; কিন্তু গবেষণার বিষয় দেখে মনে হয়েছিল তাঁকে দিয়ে সেই কাজ করানো যাবে না। পরে তিনি ‘হায়ার’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেইনিং’ (টিভেট) লিখে দেন।

এ ঘটনাকে তারেক রহমানের চিন্তাভাবনা ও দূরদর্শিতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এটিই হচ্ছে উনার চিন্তাভাবনা ও দূরদর্শিতা। আর উনিই এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী।’

দেশে একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বড় বড় কোম্পানি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজের ওপর তেমন গুরুত্ব দেয় না। এর ফলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ প্রসঙ্গে চীনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দেশটির বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরেই কারিগরি ও উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা শিক্ষার্থীদের পড়ান এবং শিক্ষার্থীরা একই সঙ্গে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। বাংলাদেশেও এ ধরনের সমন্বয় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের শুধু একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিজেদের মেধা ও দক্ষতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর আহ্বানও জানান শিক্ষামন্ত্রী। বিভিন্ন সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিতি একজন মানুষকে কোনো সমস্যাকে বহুমাত্রিকভাবে বিশ্লেষণ করতে সহায়তা করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় এই শিক্ষাবৃত্তি উদ্যোগের প্রশংসা করেন শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানকেও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু শ্রেণিকক্ষ, গবেষণা কিংবা ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অ্যালামনাই ও সমাজ যখন শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণের পথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, তখনই সেই সাফল্য পূর্ণতা পায়।

তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য ১ কোটি টাকার স্কলারশিপ ফান্ড গঠন করায় মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর মতে, এটি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণারও উৎস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে উপাচার্য অ্যালামনাই ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি একটি ‘সেন্ট্রাল ফান্ড’ বা ‘এনডাউমেন্ট ফান্ড’ গঠনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে চলতে পারে না। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে পড়ছে।

মেঘনা গ্রুপসহ দেশের সফল ব্যবসায়ী ও অ্যালামনাইদের পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এ ধরনের ফান্ড গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এ ফান্ডের মাধ্যমে গবেষণায় প্রণোদনা, ল্যাব স্থাপন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও কল্যাণে সহায়তা করা সম্ভব হবে বলে জানান উপাচার্য।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (এমএএ) যৌথ উদ্যোগে এক দশকের পথচলার অংশ হিসেবে ‘এমজিআই-এমএএ স্কলারশিপ ২০২৬’ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে মেঘনা গ্রুপের পরিচালক ব্যারিস্টার তাসনিম মোস্তফা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (প্রশাসন) ড. আলমোজাদ্দেদী আলফেসানী, প্রোভিসি (শিক্ষা) ড. আবদুস সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদাদলের আহ্বায়ক ও মার্কেটিং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মোর্শেদ হাসান খান এবং মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সিরাজুল হক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী।

/এএসএফ