দেশের ব্যাংক খাত নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। বর্তমানে দেশে কার্যরত ৬২টি ব্যাংকের মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশ ব্যাংককে দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে এসব ব্যাংকে আমানত রাখা গ্রাহকদের টাকা পুরোপুরি ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, দুর্বল সুশাসন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দেশের অনেক ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কিছু ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি এবং তারল্য সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যাংক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অনেক ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা এতটাই দুর্বল যে, বড় ধরনের চাপ তৈরি হলে গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়াও কঠিন হয়ে যেতে পারে।
ব্যাংক খাতে বাড়তে থাকা খেলাপি ঋণ বর্তমানে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সময়ে প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতাদের অনিয়মিত ঋণ সুবিধা, ঋণ পুনঃতফসিল এবং ঋণ আদায়ে ব্যর্থতা ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তিকে দুর্বল করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যেও এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই এখন ব্যাংকে অর্থ রাখার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর সংস্কার এবং কঠোর নজরদারি জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠন, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ব্যাংক খাত আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।
/এসএন